কী ঘটতে চলেছে থাই রাজপ্রাসাদে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৪

থাইল্যান্ডে রাজা হিসেবে মাহা ভাজিলালংকর্নের অভিষেক হওয়ার ছয় মাস যেতে না যেতেই দেখা যাচ্ছে রাজপ্রাসাদে একের পর এক উচ্চ পদস্থ স্টাফরা ছাঁটাই হচ্ছেন। বিষয়টিকে নয়া থাই রাজার ক্ষমতা সুসংহত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

রয়েল কনসোর্ট পদ থেকে যাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি নিজেকে রানির সমপর্যায়ের ভাবতে শুরু করেছিলেন এর মধ্যদিয়ে তিনি রাষ্ট্রের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। এর ফলে একজন রাজকীয় পদবি পাওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে তা হারান। এছাড়া ‘চরম অনৈতিক’ কাজের অভিযোগ রাজা ও রানির ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ১৬ পাউন্ড ওজনের মুকুট মাথায় দিয়ে ভাজিলালংকর্নের অভিষেক ঘটেছে প্রায় ছয় মাস আগে। এর মধ্যে তিনি এমন সব কাজে হাত দিয়েছেন, যা থেকে ধারণা করা যায়—তিনি ক্ষমতা সুসংহত করতে চাচ্ছেন; যে কারণে অবিশ্বস্ত অনুচরদের সরিয়ে দিতে তত্পর হয়েছেন। তার বাবা ভূমিবল প্রায় সাত দশক দেশটির রাজা থাকাকালে এমনটি করেননি। সাধারণ জনতার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে দেখা গেছে। তিনি কখনো ধানখেতে কৃষকের সঙ্গে, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। বর্তমান রাজার ভাবমূর্তিটি সেরকম নয় বলে সমালোচকদের অভিযোগ। ভাজিলালংকর্ন বেড়ে উঠেছেন জার্মানিতে। অনেকগুলো বছর তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন। ২০১৬ সালে ভূমিবল মারা যান। ২০১৮ সালে ভাজিলালংকর্ন ক্রাউন প্রপার্টি বুর্যোর দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। ধারণা করা হয় তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপর। তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী রাজন্যের একজন।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ভাজিলালংকর্ন নিজের বোনকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে আনেন। তার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তিনি আটকে দেন। তিনি গত মাসে সামরিক বাহিনীর দুটি পদাতিক ইউনিটকে সরাসরি রাজপ্রাসাদের কমান্ডের অধীনে নিয়ে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের চেয়ার থাই রাজতন্ত্রবিষয়ক গবেষক তামার লুস বলছেন, ১৯৩২ সালে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র অবসানের পর এরকম ঘটনা আর ঘটতে দেখা যায়নি।