শীতে ক্যাজুয়াল উষ্ণতা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০১

 

 

 

l মিমি হক

 

ফ্যাশন স্টেটমেন্ট শব্দটির সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে আর্ট, মিনিমাল, সিমপ্লিসিটি ইত্যাদি শব্দ। এর প্রভাবেই প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে ফ্যাশন। আবার অনেকের ভাষায় ফ্যাশন সিজনাল। ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন হয়। তবে ক্যাজুয়াল পোশাক ফ্যাশন স্টেটমেন্টে যেমন ক্ল্যাসিক, তেমনি আরামদায়ক।

ভোরের আলোয় কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে শীতকাল আসছে। নিজেকে ফ্যাশনেবল হিসাবে উপস্থাপন করার উপযুক্ত সময় এটি। টারটেলনেক থেকে শুরু করে বুট জুতা পর্যন্ত সবকিছুই শীতকালীন পোশাক।

টারটেলনেক এমন একটি পোশাক, যা নব্বই দশকের দিকে আভিজাত্যের প্রতীক হয়েছিল। এটি সাধারণ ফুল হাতা সোয়েটার, যা গলা ঢেকে রাখতেও সহায়তা করে। এর বৈশিষ্ট্য হলো, গলা ঢেকে দেওয়ার ফেসিয়াল স্ট্রাকচার। এই শীতে যেকোনো জ্যাকেট কিংবা ব্লেজারের সঙ্গে পেয়ারআপ করতে পারে এই টারটেলনেক। যা সাধারণ পোশাকেও নিজেকে অসাধারণভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।

উইন্টার ক্যাজুয়াল নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইলরের চিফ অপারেটিং অফিসার রেজাইল কবির বলেন, ‘শীতের পোশাক বলতে প্রথমেই যে পরিধেয়টির কথা আমাদের মাথায় আসে, তা হলো জ্যাকেট। উইন্টার স্টাইল স্টেটমেন্ট জ্যাকেট ছাড়া যেন চিন্তাই করা যায় না। এটি আপনার ফ্যাশন সেন্সকে করে তুলবে আরো সৃজনশীল ও অসাধারণ। জ্যাকেটেরও রয়েছে নানা ধরন-গড়ন। যেমন লেদার জ্যাকেট, যা বাইকার জ্যাকেট নামেও জনপ্রিয়। এছাড়া বম্বার জ্যাকেট, ডেনিম জ্যাকেট ইত্যাদির বিপুল চাহিদা রয়েছে। আসলে পোশাকটি যেকোনো রকমের প্যান্টের সঙ্গে পরা যায়। যা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব এবং নিজের পছন্দের ওপর। অতিরিক্ত শীতে হুডির ওপর জ্যাকেট বেশ ট্রেন্ডি। তরুণদের অনেকেই এখন একটির ওপর আরেকটি পোশাক দিয়ে লেয়ার তৈরি করে পরতে পছন্দ করে। এই লেয়ারআপ আপনার ফ্যাশনকে করবে লেভেলআপ।’

বুট জুতা কিংবা হাই টপ জুতাকে বলা হয় শীতের আইকন। বাহ্যিক অর্থে জুতা মানুষের পরিপাটি হওয়ার পরিচয় বহন করে। এই শীতে বুটই পারে আপনাকে ফ্যাশনেবল হিসাবে উপস্থাপন করতে। একই সঙ্গে শীত থেকেও করবে সুরক্ষিত। বুটের রয়েছে রকমভেদ। যেমন মিলিটারি বুট, অক্সফোর্ড বুট, চেলসি বুট, স্নিকার হাইটপ, ডাবল হাইটপ, হাইকিং বুট ইত্যাদি। কোন বুটটি কখন পরবেন, তা নির্ভর করে আউটফিট ও উপলক্ষের ওপর।

শীতের দেখা মেলেনি এখনো। তাই খুব বেশি ভারী কাপড়ের প্রয়োজনও অনুভূত হচ্ছে না এখন। এমন আবহাওয়ায় ছেলেদের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট থাকে উইন্টার ক্যাজুয়ালের দখলে। সিঙ্গেল জার্সি বুননে পাতলা উল অথবা অ্যাক্রিলিকের সোয়েটার এখন ট্রেন্ডি। রাউন্ড নেকের কাটই বেশি জনপ্রিয় এ ধরনের কাপড়ে। সোয়েটারের ক্যাজুয়াল ডিজাইন হতে পারে রকমারি রঙের। আর বৈশ্বিকভাবেই এখন রঙের ব্যবহার স্বাধীন ও সাহসী। হলুদ, কমলা, প্যাস্টেল লাল, নেভি ব্লু, ডার্ক রেড, পার্পেলের মতো রং এখন ট্রেন্ডি। চিনোস অথবা ডেনিম প্যান্টের সঙ্গে এসব সোয়েটার দারুণ স্মার্ট। তবে পায়ে থাকা চাই কনভার্স অথবা লোফার জুতা।

ফুলহাতা টি-শার্ট ক্ল্যাসিক ফ্যাশনের অংশ। সময়ের সঙ্গে চলতি ট্রেন্ডে দেখা মেলে কালো, কালচে বা গাঢ় রঙের বাইরেও বিভিন্ন রঙের নতুন ডিজাইনগুলো। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড অনুযায়ী টি-শার্টের ডিজাইনে যোগ হয়েছে মাল্টি লেয়ার প্রিন্ট। প্রিন্টেড রাউন্ড নেক টি-শার্টের পাশাপাশি ফুলহাতা হেনলি এখন জনপ্রিয়। ওয়াশ কিংবা ভিনটেজ লুকের হেনলিও তরুণদের প্রিয়। টি-শার্টের ওপরে শার্ট পরে বোতাম খুলে রাখা ছেলেদের ক্লাসিক ক্যাজুয়াল ফ্যাশন। বছরের পর বছর ধরে এই ফ্যাশনের জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে।

এখনো সবচেয়ে বেশি ড্রেস কোড মেনে অফিসে যেতে হয় ছেলেদের। যা মেনে চলতে হয় অফিশিয়াল পার্টি বা মিটিংয়েও। আর শীতে নিজের লুককে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায় কোট, ব্লেজার, কোটি ও স্যুটে। এ সবকিছুই চিন্তা করা যাবে ফরমাল অথবা সেমি-ফরমাল হিসাবে। ক্লাসিক ফ্যাশন-সচেতনদের কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও দেখা যায় এ ধরনের কালেকশন। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাশ পিনডট স্যুট, ব্ল্যাক ম্যাচিং স্ট্রাইপ স্যুট, বিস্কুট স্যুট। অথবা এই কাটিংয়ের ক্যাজুয়াল ব্লেজার। তবে প্যাটার্ন ভিন্নতা ব্লেজারে বেশি জরুরি।