দেশি শিল্পের সংরক্ষণ ও শুল্কহার যৌক্তিকীকরণ দাবি

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৩

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিস অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) চেয়ারম্যান জহির উদ্দীন আহমেদ।

সেমিনার বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিটিটিসি’র সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। তিনি এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আইসিএসবি’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ট্রান্সওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রফেসর ড.ফিরোজ ইকবাল ফারুকী মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সাব-কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আইসিএসবির কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ আসাদউল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- বিটিটিসির কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ট্যারিফ কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কিত জ্ঞান আইসিএসবি সদস্যদের দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উত্সাহিত করবে। সর্বোপরি বাংলাদেশকে এসডিজি অর্জনে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য বিশ্বব্যাপী উচ্চস্থান অধিকার করেছে। বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলি এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বাংলাদেশকে এখন সাফল্যের নেতা এবং রোল মডেল হিসাবে উল্লেখ করে থাকে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্রমেই বেড়ে চলছে, মাথাপিছু আয় ১৭২৫ মার্কিন ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, আমাদের গতবছরের রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এইবছর লক্ষ্যমাত্রা ৪১বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকার ইতোমধ্যে ১০টি মেগাপ্রকল্প ও অন্যান্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ১০টি মেগা এবং অন্যান্য সহায়ক প্রকল্পের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি উন্নয়ন ও শিল্পায়ন আশা করা হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় কর্পোরেট খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য চার্টার্ড সেক্রেটারিদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করা হয়। সরকারের শিল্পনীতি বাস্তবায়নে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিটিটিসির মূল লক্ষ্য দেশি শিল্পের সংরক্ষণ ও যুক্তিসঙ্গতকরণ এবং শুল্কহার যৌক্তিকীকরণ ও যথাযথ রাজস্বসংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পবিনিয়োগে উত্সাহ প্রদান। এজন্য ডাম্পিং এবং ভর্তুকি দেওয়া পণ্য আমদানির অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের দায়িত্বও কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। যদি উত্পাদন খরচের কম মূল্যে (ডাম্পিং) এবং ভর্তুকি দেওয়া পণ্য আমদানি করা হয় তার প্রতিরোধকারী ব্যবস্থাপনার অধিকার কমিশনের রয়েছে।

তাছাড়া হঠাত্ অতিরিক্ত আমদানির বিরুদ্ধেও রক্ষাকবচমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বিটিটিসি। কমিশন প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করে এবং শুল্কহার যুক্তিসঙ্গতকরণ, প্রচলিত আমদানি ধারার উদারীকরণ ও দেশীয় উত্পাদন ও রপ্তানিভিত্তিকে শক্তিশালী করতে উত্সাহ কাঠামো সমপ্রসারণের জন্য নীতি প্রণয়ন করে। একটি চলমান দায়িত্ব হিসেবে, কমিশন আমদানিকৃত উপকরণ (কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী উপকরণ) এবং মূলধনি দ্রব্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্কহার পুনর্নিরীক্ষণ করে। কমিশন সরকারের মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি বাস্তবসম্মত ও গতিশীল শুল্ককাঠামো তৈরির জন্য জাতীয় রাজস্ববোর্ড, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়/পরিকল্পনা কমিশন এবং বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকরী সমন্বয় সাধন করে থাকে।