ইত্তেফাক রিপোর্ট
কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সহমতাদর্শীদের একাধিক সংগঠন রয়েছে সোনালী ব্যাংকে। এ সকল সংগঠন পরিচালনা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রয়েছে অঞ্চলভিত্তিক কমিটি। ফরিদপুর অঞ্চলের সকল কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকজন সুবিধাবাদী দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা।
সম্প্রতি ফরিদপুরে কয়েকটি শাখা থেকে কৃষি লোনের বরাদ্দের অতিরিক্ত বিতরণের বিষয়টি নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত করে ফরিদপুর প্রিন্সিপাল অফিস।
এক সময়ে ফরিদপুরের বি-২০২ এর নেতা মো. ইকবাল হোসেন এবং মো. বক্তার হোসেন পদোন্নতি পাওয়ার কারণে ওই সংগঠনের পদ হারিয়েছেন। বর্তমানে একাধিক সংগঠনের কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। নতুন কোনো কমিটি করতে গেলে তাদের তোষামোদকারী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে পদ দেওয়া হয় না, যা নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির বড় অন্তরায়।
বছরের পর বছর এরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে দুর্ণীতিপরায়ণ বানায় অথবা তাদের কর্মজীবন হয় বাধাগ্রস্ত। এই অঞ্চলের কোনো কর্মকর্তার বদলি, কোনো ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরি করা, এমনকি দুপুরের খাবারের টাকা থেকে বিভিন্ন কারণে চাঁদা আদায় নৈমিত্তিক বিষয়।
অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার নেপথ্যে ছিলেন মো. ইকবাল হোসেন ও মো. বক্তার হোসেন। পরবর্তীতে সেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আবারো তদন্ত করতে আসেন প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং ওই দুই কর্মকর্তাসহ তাদের কয়েকজন সহযোগী। এই পরিস্থিতিতে শাখার ঋণ কর্মকর্তারা প্রচুর টাকা ঢেলে প্রতিবেদন ঠিক করেছেন।
জানা গেছে, এ ঘটনায় ভাঙ্গা শাখার ঋণ কর্মকর্তা শাহ মো. আশরাফুজ্জামান একাই দিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। বরাদ্দের অতিরিক্ত বিতরণের অর্থ জিএম অফিস থেকে পাস করিয়ে দিয়ে এবং স্বাভাবিক প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইকবাল এবং বক্তার তার থেকে ৭০ হাজার টাকা নেয় একই সঙ্গে আগের তদন্তে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি তার অন্য সহকর্মীরা জানেন। প্রিন্সিপাল অফিস এবং অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের মধুখালী শাখার ম্যানেজার একই ধরনের ঘটনায় ইকবাল ও বক্তার-কে এক লাখ টাকা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি- এ অঞ্চলকে দুর্নীতিমুক্ত করে সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে কমিটি গঠন করা হোক।
