গ্র্যান্ডমাস্টার পেতে পাকিস্তানের ৭৩ বছর অপেক্ষা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০২

স্পোর্টস রিপোর্টার

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার বাংলাদেশের নিয়াজ মোরশেদ। ১৯৮৭ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার উপাধি পেয়েছিলেন নিয়াজ। বাংলাদেশের পর ভারত গ্রান্ডমাস্টার পেয়েছে। আর পাকিস্তানের অপেক্ষা ৭৩ বছর। ঢাকায় প্রথম সার্ক দাবা টুর্নামেন্ট খেলতে এসে এমন তথ্যই দিলেন দাবাড়ু মাহামুদ লোদী।

এই দাবাড়ু বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত একজন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে দাবা খেলতে আসছেন। এবারও এলেন। গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে সার্ক দাবা টুর্নামেন্ট শুরুর অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে মাহামুদ লোদী জানালেন, একজন গ্র্যান্ডমাস্টার পেতে পাকিস্তানকে ৭৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। লোদী হতে যাচ্ছেন সেই গ্র্যান্ডমাস্টার। কাল বিকালে কথা প্রসঙ্গে লোদী বললেন, ‘পাকিস্তানের দাবার ইতিহাসে আমিই প্রথম দাবাড়ু, গ্র্যান্ডমাস্টার হতে যাচ্ছি। বলতে পারেন আমি এখনই গ্র্যান্ডমাস্টার।’ গ্র্যান্ডমাস্টার হতে তিনটি নর্ম প্রয়োজন। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় প্রথম জিএম নর্মটি পেলেও তৃতীয় নর্মটি পেয়েছেন ২০১৭ সালে। তাহলে কি এখনই লোদীকে গ্র্যান্ডমাস্টার বলা যায়? কথাটা শুনেই লোদী বললেন, ‘কেন বলা যাবে না? আমি নর্ম করে ফেলেছি। পাকিস্তানে দাবার ৭৩ বছরের ইতিহাসে আমি প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার।’ দাবার নিয়মে নর্ম পূরণ হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়। লোদীর সূত্রেই জানা গেল, জিএম নর্মের আবদেন করলে ৩৬০ ইউরো জমা দিতে হবে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশনে। লোদী বললেন, ‘এই প্রসঙ্গটি বাদ দেন।’ গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানও বললেন, ‘মিনিমাম ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে পাকিস্তান গ্র্যান্ডমাস্টার পাচ্ছে না। আর গ্র্যান্ডমাস্টার পেলেও মাহামুদ লোদী পাবে।’ লোদী বললেন, ‘পাকিস্তানে দাবা নিয়ে কেউ ভাবে না। তবে এখন দাবা ফেডারেশন কাজ করছে।’

১৯৮৭ সালে প্রথমবার ঢাকায় এসে প্রান্তিক দাবায় চ্যাম্পিয়ন না যেন রানার্সআপ হয়েছিলেন মনে করতে পারলেন না লোদী। তবে এখন পর্যন্ত ৩২ বছরে ৫০ বারের বেশি বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করেছেন তিনি। বাংলা ভাষাটাও বলতে পারেন। বয়স এখন ৫৯ বছর। ব্যবসা করেন। পাশাপাশি খেলছেন। অপেক্ষায় আছেন, কবে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব পাবেন।

পাকিস্তানের দাবায় যখন এই অবস্থা, তখন আফগানিস্তানের অবস্থা আরো নাজুক। ফুটবল, ক্রিকেটসহ একাধিক খেলায় আফগানিস্তান উপমহাদেশে গর্জন করছে। ক্রিকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়, ফুটবলেও একই অবস্থা। সার্ক দাবায় খেলতে এসে ২২ বছরের আফগান তরুণ আহমেদ সাফি খান বললেন, ‘আমাদের দেশে দাবার খুব একটা জনপ্রিয়তা নেই। ফিদে মাস্টার পাঁচ জন, সাত-আট জন ক্যান্ডিডেট মাস্টার। শ-পাঁচেক দাবাড়ু রয়েছে। এটাকে দাবা খেলা বলে না। আমি একটা দোকানে ২০০ ডলার বেতনে কাজ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। এর ফাঁকে দাবা খেলতে আসি।’