ইত্তেফাক রিপোর্ট
খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঐ ব্যক্তির নাম মুরাদ বেপারী। গত সোমবার রাতে তাকে মেরাদিয়া এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে গতকাল ভোরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মুরাদ পুলিশের সোর্স ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, মুরাদ তার স্ত্রী ও একমাত্র শিশু ছেলেকে নিয়ে মেরাদিয়া জামতলা বড়বাড়ি এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকার কয়েকজন তাকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। মধ্যরাতে সে রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে আসে। মুরাদ তার স্ত্রীকে জানায়, মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ডেকে নিয়ে মারপিট করেছে। সে প্রাণে বেঁচে এসেছে। কিন্তু বাসায় তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ভোরে তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বোন বানু আক্তার জানান, তার ভাই পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশকে তথ্য দিতেন। এজন্য এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন মানুষই তো পুলিশকে নানা তথ্য দিয়ে অপরাধ দমনে সহায়তা করে থাকে। নিহত ব্যক্তি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন এমন তথ্য তার কাছে নেই। ওসি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, পূর্ব পরিচিত মিলন, আজিজ, মিল্টন, মিন্টু ও সোহেল নামে কয়েকজন মুরাদকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছিল। এতে ঐ যুবক প্রাণ হারায়। হত্যায় জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত। তাদের মধ্যে মিলন, মিন্টু ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
