দায়িত্ব গ্রহণের ৮০ ঘণ্টায় পদত্যাগ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৩

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোটের একদিন আগেই পদত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। দায়িত্ব গ্রহণের ৮০ ঘন্টার মাথায় তিনি সরে দাঁড়ালেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেরই পরই পদত্যাগ করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিব সেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে। আগামী রবিবার তিনি শপথ নেবেন। খবর এনডিটিভির

 

 

মুখ্যমন্ত্রীর আগে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অজিত পাওয়ার। গতকাল দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ঠিক তারপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তারপরই ইস্তফা দেন। মহারাষ্ট্রে দলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের পদত্যাগ করা উচিত, নাকি আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা উচিত তা নিয়ে বৈঠক হয়। তবে বিজেপির পক্ষে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করে কঠিন। বৈঠকের পরেই দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে এই ধরনের বার্তা যায়।

 

শনিবার সকালে হঠাত্ করেই শপথগ্রহণ করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং অজিত পাওয়ার। সেই সরকার গঠনকে অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। রাজ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিব সেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস। তিন দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে যে, শিব সেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। রবিবার তার শপথ অনুষ্ঠান।

আরো পড়ুন : অপব্যবহারে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের মধ্যে ১০৫টিতে জয়লাভ করে বিজেপি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৪০টি আসন। দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দাবি করেন, তার দিকে ১৭০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে এনসিপির পরিষদীয় নেতা অজিত পাওয়ারের দাবি মতো ৫৪ বিধায়কের আনুমানিক সমর্থন। হঠাত্ করে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে ছিল অজিত পাওয়ারের মেরু পরিবর্তন। তার দিকে ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে, প্রায় সমস্ত বিধায়করাই দলের পক্ষে চলে আসেন এবং সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের পাঁচতারা হোটেলে দলের শক্তিপ্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন। পরিষ্কার হয়ে যায়, দলের মধ্যে একঘরে হয়ে যাচ্ছেন অজিত পাওয়ার এবং বিজেপির পক্ষে আদৌ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক নেই।

 

ইত্তেফাক/এসি