শেষ ম্যাচে দাপটের সহিত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাইয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি নিজের করায়ত্ত করিবার পাশাপাশি ২০১৮ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো সিরিজ জিতিল ক্রমেই অদম্য হইয়া উঠা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটিতে ৮ উইকেটের জয়কেও ছাপাইয়া উঠিয়াছে বোলিং ব্যাটিংসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাহাদের পরিণত পেশাদারি মনোভাব— যাহা প্রশংসনীয়ই শুধু নহে, একই সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত দূরযাত্রার ইঙ্গিতবহও বটে। কেবল এই একটি ম্যাচেও বাংলাদেশের অর্জন কম নহে। সর্বাপেক্ষা তাত্পর্যপূর্ণ অর্জনটি হইল, নবীন-প্রবীণের চমত্কার মেলবন্ধন—ক্রিকেটে সাফল্যের ধারাবাহিকতার জন্য যাহা অবিকল্পই বলা যায়। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, জয়ের ভিতটি গড়িয়া দিয়াছেন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ, আর বরাবরের মতোই সামনে থাকিয়া সফল নেতৃত্ব দিয়াছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ওপেনার তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা। সম্মুখে বিশ্বকাপের সোনালি হাতছানি। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ আর দুইটি সিরিজে সব মিলাইয়া ৭টির মতো ওয়ানডে খেলিবার সুযোগ পাইবে। ইহার পরপরই শুরু হইয়া যাইবে চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্ব। তবে বাংলাদেশ যেইভাবে চলমান বত্সরটি শেষ করিল, বিশ্বকাপের বত্সরটিকে স্বাগত জানাইবার জন্য ইহার চাইতে ভালো সূচনা আর কী হইতে পারে!
ইহা অনস্বীকার্য যে, ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণের পর হইতে অদ্যাবধি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাহিরে কোনো টুর্নামেন্ট জিতিতে না পারার আক্ষেপ সত্ত্বেও, বর্তমান সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অন্যতম পরাশক্তির নাম বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে কাহাকে না হারাইয়াছে তাহারা! সন্দেহ নাই যে তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতেই সবচাইতে বেশি সফল বাংলাদেশ। তবে পিছাইয়া নাই অন্য দুইটি ফরম্যাটেও। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এখন টেস্টেও সাফল্য আসিতেছে নিয়মিত। পাশাপাশি টি২০ ফরম্যাটেও কাটিতে শুরু করিয়াছে হতাশার অন্ধকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শিরোপা হাতছাড়া হইলেও ২০১৬ সালের এশিয়া কাপ এবং সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফি টি২০ সিরিজের ফাইনালে খেলিয়াছে বাংলাদেশ। আর এইবার তো ওয়ানডে ফরম্যাটে বত্সরের সেরা তিন দলের একটিতে স্থান করিয়া লইয়াছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালকে বাংলাদেশের সেরা সাফল্যের বছর ধরা হয়। ২০১৫ সালের পর আবারও এই বত্সর ১৩টি ওয়ানডে জিতিয়াছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৩ জয় আসিয়াছে ২০ ম্যাচে। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১৪ জয় লইয়া একটু উপরে ভারত। আর ২৪ ম্যাচে ১৭ জয় লইয়া সবার উপরে ইংল্যান্ড। সব মিলাইয়া, ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বাপেক্ষা বড় জয় হইতে বাংলাদেশের অবস্থান যে খুব দূরে নহে, তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। দলের কাণ্ডারি মাশরাফি নিজেও যে এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন সিলেটে ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তাহা তিনি গোপন করেন নাই। সংগত কারণেই বাংলাদেশ দলের এই দাপুটে জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশাকেও ছাপাইয়া উঠিয়াছে বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ জয়ের অন্যরকম এক আবেগ। টানা সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলকে আমরা অবশ্যই অভিনন্দন জানাইব, তবে একই সঙ্গে অপেক্ষা করিব আরও বৃহত্ একটি উপলক্ষের জন্য।
