জলবায়ু পরিবর্তন

দু’শ বছরে পৃথিবী পিছিয়ে যাবে ৫ কোটি বছর!

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৬

মনুষ্যসৃষ্ট কারণে পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হচ্ছে আর জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে নানারকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাত্রাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ তথ্য আমরা সবাই কমবেশি জানি, কিন্তু বিজ্ঞানীরা কিছুদিন আগে এক ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন যা শুনে রীতিমত আঁতকে উঠতে হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিগত ৫ কোটি বছর যাবত্ প্রাকৃতিক নিয়মে পৃথিবী ক্রমশই শীতল হয়ে আসছিল কিন্তু মানুষের অবিমৃষ্যকারিতার কারণে গ্রহটির আবহাওয়া এখন উল্টোপথে যাত্রা শুরু করেছে অর্থাত্ ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে এবং এই উষ্ণতার মাত্রা এতই বেশি যে মাত্র ২০০ বছরে পৃথিবীর জলবায়ু ৫ কোটি বছর আগের অবস্থা ধারণ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সাইন্সেস-এর জার্নালে অতিসম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে বিজ্ঞানীরা এসমস্ত ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বর্তমান মাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর আবহাওয়া হবে ৩০ লাখ বছর আগের পিস্নওসিন যুগের মত এবং ২১৫০ সালের মধ্যে ৫ কোটি বছর ইওসিন যুগে ফিরে যাবে গ্রহটি। তবে তখন মানুষসহ পৃথিবীর প্রাণীকূল সেই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে কিনা অথবা বাঁচতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। গবেষকদের একজন উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন জ্যাক উইলিয়ামস বলেন, পিস্নওসিন যুগে উত্তর গোলার্ধে কোনো বড় বরফের টুকরো ছিল না এবং সাগরের উচ্চতা ছিল এখনকার চেয়ে ৬০ ফুট বেশি। আর ইওসিন যুগে বিশ্বের তাপমাত্রা ছিল বিংশ শতাব্দীর চেয়ে ১৩ সেন্টিগ্রেড বেশি এবং তাতেই ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে যায়। সে সময় পৃথিবীর কোথাও স্থায়ী বরফ বলে কিছু ছিল না। উত্তর মেরু তখন গাছপালায় আচ্ছাদিত জলাভূমিতে পূর্ণ ছিল। অধ্যাপক উইলিয়াম বলেন, ৫ কোটি বছর আগে ইউসিন যুগেই পৃথিবীতে প্রথম তিমি ও ঘোড়ার মত স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবির্ভাব ঘটতে শুরু করে।

বিজ্ঞানীরা তাদের এই গবেষণায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের আবহাওয়ার তুলনামূলক বিচার করেন। তারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন একই মাত্রায় চলতে থাকলে আগামী ২০০ বছরে পৃথিবীর আবহাওয়া কি হতে পারে তা কম্পিউটারের মাধ্যমে বের করেন। এছাড়া ৫ কোটি বছর আগে থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর আবহাওয়া সম্পর্কে প্রাপ্ত ডাটাও তারা কম্পিউটারে ইনপুট করেন। এভাবেই পৃথিবীর আবহাওয়ার একটা তুলনামূলক বিচার এবং সেইসঙ্গে ভবিষ্যত্ আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার প্রয়াস চালান তারা। সূত্র: নিউজউইক