যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় হার হলো পর্ণ তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের। ২ লাখ ৯৩ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে তাকে। আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট জাজ জেমস ওটেরো পর্ণ তারকা স্টর্মি ও তার আইনজীবীকে এ নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে স্টর্মি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এ জয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেন ট্রাম্প। স্টর্মি প্রথম মামলায় অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালে স্টর্মির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। ২০০৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের হয়ে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর যখন একের পর এক নারী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনছিলেন, তখনই মুখ খুলেছিলেন স্টর্মি। এ সময়েই আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে এ পর্ণ তারকার মুখ বন্ধ রাখতে ট্রাম্প উদ্যোগী হন।
স্টর্মির মুখ বন্ধ রাখতে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাস আগে ট্রাম্প তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিলেন। পরে স্টর্মিকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর সঙ্গে ট্রাম্প বা তার ক্যাম্পেনিং টিমের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিনের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। ট্রাম্প এ সব অভিযোগ অস্বীকার করলে স্টর্মির পক্ষ থেকে একটি মানহানির মামলা করা হয়। মামলা চলাকালীন গত সপ্তাহে ট্রাম্পের আইনজীবী চার্লস হার্ডার আদালতে এ পর্ণ তারকার কাছে আইনজীবীর ফি এবং অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ বাবদ ফেরত চান। শুনানি শেষে আদালত ২ লাখ ৯৩ হাজার ডলার পরিশোধ করার জন্য স্টর্মিকে নির্দেশ দেয়। আদালতের এ নির্দেশকে প্রেসিডেন্টের ‘বিজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন চার্লস হার্ডার।
অতঃপর চরম অস্বস্তি: এ দিকে স্টর্মিসহ দুই নারীকে অর্থ প্রদানসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্পের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সাবেক আইনজীবী কোহেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে একটি মার্কিন আদালত। এ ঘটনা ট্রাম্পকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। কারণ, আদালতে দণ্ডিত কোহেন আদালতের বিচারককে বলেন, ট্রাম্পই তাকে আলোর পথে চলার পরিবর্তে অন্ধকারের পথে ঠেলে দিয়েছেন। সব অপকর্মের জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোহেন। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তাকে কখনো খারাপ পথে যেতে বলেননি। কোহেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে অর্থ দিয়ে দুই নারীর মুখ বন্ধ করা, রাশিয়ায় প্রস্তাবিত ট্রাম্প টাওয়ার প্রজেক্ট নিয়ে কংগ্রেসকে মিথ্যা বলা এবং কর ফাঁকি দেয়া। প্রতিটি অপরাধেই দোষ স্বীকার করেছেন কোহেন। কোহেন আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রতি অন্ধ আনুগত্যই ছিল তার দুর্বলতা। আর ট্রাম্পের এ সব নোংরা কাজ ধামাচাপা দেয়াকেও তিনি তার কর্তব্য বলে মনে করেছেন।
