আসামে বিদেশি সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩১

আসামে বিদেশি সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। এর ফলে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে একটি বড় বাঁধা আসলো। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞার খবর নিশ্চিত করেছে। খবর এনডিটিভি’র।

গুয়াহাটির প্রবীণ সাংবাদিক রাজীব ভট্টাচার্যের দায়ের করা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এক প্রশ্নের উত্তরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসাম সফরের ভিসার জন্য আবেদন করা সাত বিদেশি সাংবাদিকের আবেদন এখন সরকারের একটি ‘সংশ্লিষ্ট' বিভাগ পরীক্ষা করে দেখছে। সাংবাদিকদের জাতীয়তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনডিটিভিকে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘কেন্দ্রে বিজেপি রয়েছে সুতরাং আমি খুব একটা অবাক হইনি যে বিদেশি মিডিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কয়েক মাস এবং আরও কিছু নিষেধাজ্ঞার পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে তবে ফলাফল অন্যান্য কারণের উপরও নির্ভর করতে পারে।’

রাজীব আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, নির্বাচনে জয়লাভই একমাত্র পরিকল্পনা। কোনও কিছুর মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। সবকিছুই নির্দিষ্ট একটা উদ্দেশ্যে করা যার ফলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন: ৪১ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীর বা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোসহ সীমাবদ্ধ বা সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে যেতে চাইছেন এমন বিদেশি সাংবাদিকদের একটি বিশেষ অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। পরে আরও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়, এটি সব বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ওই সংবাদকর্মীর ভারতের ভেতরে কিংবা বাইরে যেখানেই অবস্থান করেন না কেন; তা বিবেচ্য নয়।

বিদেশি (সুরক্ষিত অঞ্চল) আদেশ ১৯৫৮ বা বিদেশি (সীমাবদ্ধ অঞ্চল) আদেশ ১৯৬৩ এর আওতাভুক্ত রাজ্যগুলোতে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক ভারতীয় নন এমন নাগরিকদের প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট (পিএপি) বা রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া পারমিট (আরএপি) পাওয়া প্রয়োজনীয়। আসাম অবশ্য এই রাজ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

গত সপ্তাহে সংসদে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই আসামে এনআরসি করা হয়। দেশজুড়েই এনআরসি করা হবে, এবং আসামে আবারও করা হবে, কোনও ধর্মের কারোরই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন যে, এনআরসি তালিকায় যাদের নাম অনুপস্থিত তারা ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন এবং আসাম সরকার তাদের আর্থিক সহায়তাও করতে প্রস্তুত।

ইত্তেফাক/এসইউ