বিজয়ের ৪৭ বছর উদযাপনে গতকাল রবিবার রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন ছিল আনন্দমুখর। কেন্দ ীয় শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সাভারের স্মৃতিসৌধ অভিমুখে ছিল মানুষের স্রোত। শিশু-কিশোররা ছুটেছে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। অনেকে ভিড় করেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। জাতীয় জাদুঘরের দ্বার ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। নগরীর মঞ্চে মঞ্চে ছিল একাত্তরে প্রেরণা সঞ্চারী সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নাচসহ নানা আয়োজন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ ীয় খেলার মাঠ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমিতে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছুটির দিনে মানুষ দল বেঁধে উপভোগ করেন বিজয়ের অনুষ্ঠানমালা।
ছায়ানট: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও বাঙালির পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের সময়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলের মাহেন্দ ক্ষণকে লক্ষ্যে রেখে, হাজারো কণ্ঠ মিলেছে গান আর স্লোগানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ ীয় খেলার মাঠে ছায়ানট আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকালে। খেলার মাঠকে জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙে সাজিয়ে সবাই একসঙ্গে গেয়ে উঠেছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ শিল্পীরা এসেছিলেন লাল শাড়ি আর পাঞ্জাবি গায়ে। দর্শকরাও যোগ দিয়েছিলেন লাল সবুজ পোশাকে। মঞ্চ সাজানো হয়েছিল সবুজ রঙে। অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনে জড়িয়ে ছিল লাল সবুজের বাংলাদেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত।
শিল্পকলা একাডেমি: নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে বিজয়ের ৪৭বছর উদযাপন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। দুই দিনের অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে রবিবার সন্ধ্যায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের নন্দনমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শেষ দিনের আয়োজন। একাডেমির শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপনের শেষ দিনের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এরপর আনিসুল ইসলাম হিরুর নৃত্য পরিচালনায় ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ যাও চিনে’, এবং ‘ নাও ছাড়িযা দে’ গান দুটির সঙ্গে দলীয় নৃত্যের পর এম.আর ওয়াসেকের পরিচালনায় ‘চল এগিয়ে যাব বাধা মানিনা’ গানের সঙ্গে সোহেল রহমানের পরিচালনায় ‘ জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ’ ও ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুন্য’ গানদুটির সঙ্গে দলীয় নাচের ঝংকার তোলেন শিল্পীরা। দলীয় নৃত্যের পর ‘আজি এ প্রভাতে রবির ক, ‘দুর্গমগিরি কান্তার মরু, ‘পূর্ব দিগন্ত সূর্য্য উঠেছে’ গান তিনটির কোলাজ নৃত্য পরিবেশন করে সামিনা হোসেন প্রেমা ও তার দল। এরপর ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে’, ও ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের’ গান দুটি সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমি শিশু সংগীত দল। একক কণ্ঠে প্রিয়াংকা প্রিয়া গেয়ে শোনান এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ অনন্যা আচার্য্যের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘এই বাংলার মাটিতে’, ও ‘আমার মন পাখিটা যায়রে উড়ে যায়’ বর্ণালী সরকার পরিবেশন করেন ‘এই বাংলার মাটিতে মাগো জন্ম আমায় দিও, একক কণ্ঠে আরো সংগীত পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, কৃষ্ণকলি, আরিফুর রহমান পলাশ প্রমুখ। দলীয়সংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী ও সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র পাঠ করেন ডালিয়া আহমেদ। নিজের লেখা থেকে পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। অ্যাক্রোবেটিক পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল।
স্বাধীনতা জাদুঘর: মহান বিজয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘর মিলনায়তনে এ আয়োজন হয়।
চ্যানেল আই বিজয় মেলা: চ্যানেল আই চত্বরে বরবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘বিজয় মেলা’। লাল সবুজের বেলুন উড়িয়ে সকালে মেলার উদ্ধোধন করা হয়। মেলায় উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান, মামুনুর রশিদ, সংগীজ্ঞ আজাদ রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও র্বাতাপ্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন এবং মুকিত মজুমদার বাবু, আনোয়ার সিন্টের পক্ষে একেএম জাবেদ, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য সৈয়দ আশরাফ আলী, সাংবাদিক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর আবদুল মান্নান চৌধুরী-সহ যুদ্ধাহত ও খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দে র শিল্পী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
