মাসুদ রানা
মাসুদ রানা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেনেভা সম্মেলনে বাংলাদেশের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে ইউনিয়ন শিশু ফোরামে যুক্ত হয় সে। শিশু অধিকার বাস্তবায়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর যৌন হয়রানি বন্ধ এবং শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে মাসুদ। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন—
জাজাফী
মাসুদ রানা, কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে তোমাকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন। কেমন আছ তুমি?
মাসুদ রানা :ভালো আছি।
তুমিতো এখন আমাদের চোখে রীতিমতো সেলিব্রেটি! তোমাকে দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। বিষয়টি তোমার কেমন লাগছে?
মাসুদ :ভালো লাগছে এটা ভেবে যে, ছোট হয়েও দৃষ্টান্ত রাখতে পারছি—যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে ভালো কিছু করার জন্য।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার শুরুর কথা বলো। ২০১৪ সালে, তখন তো তুমি আরো ছোট ছিলে...
মাসুদ :আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, সে সময়ে আমাদের এলাকায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি, কিন্তু পরে যখন বুঝলাম এর সাথে যুক্ত হলে আমরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারব, ভালো কিছু করার সুযোগ পাব তখন যুক্ত হলাম। তারপর সেই পথপরিক্রমায় জেনেভা সম্মেলনে বাংলাদেশের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করলাম। শিশু অধিকার, শিশুর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ রোধ নিয়ে কথা বললাম।
বর্তমানে প্রতিনিয়ত শিশু-কিশোর-কিশোরীরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে কী করা উচিত?
মাসুদ :অধিকাংশ শিশু-কিশোর নির্যাতিত হয় পরিবার এবং কাছের মানুষের কাছ থেকে। সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে এর থেকে পরিত্রাণ সহজ হবে না। এছাড়া শিশু-কিশোরদের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আমরা যেমন আমাদের শিশু ফোরামগুলোতে নানা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করি।
সম্প্রতি তুমি জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছ। এ ব্যাপারে তোমার অনুভূতি কী? ওখানে কী নিয়ে কথা বলেছ? কারা কারা উপস্থিত ছিল?
মাসুদ :ওখানে ৩০টি দেশের শিশু প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলাম আমি। শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুশ্রম নিরোধ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন বন্ধে করণীয় নিয়ে কথা বলেছি।
তুমি কি ওখানে বাংলায় কথা বলেছ নাকি ইংরেজিতে?
মাসুদ :আমি বাংলায় কথা বলেছি। বঙ্গবন্ধুও তো ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলায়। তাছাড়া আমার গাইড এবং অভিভাবক হিসেবে আমার সঙ্গে ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের একরামুল কবীর ভাই। তিনি অনেকটা দোভাষীর কাজ করেছেন। ওদের কথা আমাকে বাংলায় বুঝিয়ে দিয়েছেন আর আমার কথা ওদেরকে ইংরেজিতে বুঝিয়েছেন। তিনি ছিলেন বলেই বিষয়টি আরো সহজ হয়েছে।
সাতক্ষীরায় অনেক শিশু ফোরাম গড়ে উঠেছে—যেখানে শিশু-কিশোর-কিশোরীরা নিয়মিত নানা বিষয় নিয়ে মেতে থাকে। সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হলে কী করণীয়?
মাসুদ :আমরা যে শিশুফোরামের মাধ্যমে সমাজে ভালো কিছু করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি তা কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়ে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই। বাল্যবিবাহ নিরোধ, শিশু-কিশোর নির্যাতন বন্ধসহ অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ততা বাড়াতে শিশু ফোরাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিশ্চয়ই এভাবেই এ কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর এর মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাল্যবিবাহের হার কমবে, শিশু-কিশোর নির্যাতন কমবে।
শিশু-কিশোরদের প্রতিনিধি হিসেবে তুমি কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমে এমন কোনো দাবি রাখতে চাও যা সবার উপকারে আসবে?
মাসুদ :শিশুরা কী চায়, কী কী করলে শিশুদের জীবন আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে, তা কেবল শিশুরাই জানে। তাই, শিশুদের সমস্যা সমাধানে শিশুদের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তাছাড়া, শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, মিডিয়াসহ সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণও খুব প্রয়োজন। বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে শিশু বাজেটের একটি অংশ রেখেছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমি চাই সেখানে বরাদ্দ আরো বাড়ুক এবং সেই বাজেটে শিশুদের সম্পৃক্ততা বাড়ুক।
আমাদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
মাসুদ :আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।
