চট্টগ্রামের তিন আসন

প্রচারণায় এগিয়ে নৌকা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৭

চট্টগ্রামের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্টসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় গতি অনেকটাই ধীর। আসনগুলো হচ্ছে: চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এবং চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী)।

চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী তার নেতা-কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় এগিয়ে আছেন বলেই স্থানীয় জনগণের অভিমত। রাউজানের সর্বত্র ছেয়ে গেছে তার পোস্টার ব্যানারে। হাতে হাতে যাচ্ছে লিফলেট, করছেন উঠান বৈঠক। এ আসনে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন সিকদার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে দেখা যায়। প্রচারণার একপর্যায়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরীর মুখোমুখি হলে তারা দুজন আলিঙ্গন করে কুশল বিনিময় করেন। গত শুক্রবার রাতে সীমিত কিছু এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার ব্যানার দেখা যায়। কিন্তু নৌকার প্রচারণার তুলনায় তা খুবই কম। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানান, এবারের নির্বাচনে ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরিবারের কোনো প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে না থাকায় রাউজানে বিএনপির প্রচারণায় উদ্দীপনা খুবই কম। রাউজানে অন্যান্য প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন হাতপাখা মার্কায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবদুল আলী। কিন্তু প্রচারণার মাঠে তার দেখা মিলছে না। ফজলে করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর তিনবার এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগরী সংলগ্ন চট্টগ্রাম-৮ আসনটিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল নৌকা প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচনের প্রচারণায় মাঠে আছেন। অনেক আগে থেকেই তিনি গণসংযোগে আছেন। এবার প্রচারণায় মাঠে-ময়দানে ব্যাপক তত্পরতা চলছে তার পক্ষে। এক সময় বিএনপির নির্বাচনী এলাকা বলে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাতে এসে যায়। ওই নির্বাচনে মঈনুদ্দিন খান বাদলের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহ। এবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্যোগ নিলেও তার মনোনয়ন বাতিল হলে এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসেন চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান। তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর প্রচারণা শুরু করেন আহলা দরবার শরীফে জিয়ারতের মাধ্যমে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ জেলার প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীরা প্রচারণায় এগিয়ে। রাউজানসহ বিভিন্ন স্থানে এক সময়ের ধানের শীষের সমর্থক-কর্মীরা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. হাছান মাহমুদ ২০০৮ সালে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করলে চট্টগ্রাম-৭ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে চলে আসে। ড. হাছান মাহমুদ ২০১৪ সালেও এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে নৌকা প্রতীক এবারও প্রচারণায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে বলে রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে এলডিপি মনোনীত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নুরুল আলম ধানের শীষ নিয়ে প্রচারণায় অনেক পিছিয়ে আছেন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার ভাই ও বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি রাঙ্গুনিয়ার নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তার সংশয় জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগও দাখিল করেছেন। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীদের প্রচারণায় দেখাই যাচ্ছে না। এরা হলেন: চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের নেয়ামত উল্লাহ আশরাফি, এনপিপি মনোনীত আম প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউর রহমান, জাসদ (রব) মনোনীত মশাল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী আবু নওশাদ নঈমী।