পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় গবাদি পশুর মধ্যে ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস যাবত্ জেলার বেড়া, সুজানগর ও সদর উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে এ রোগে গবাদি পশু আক্রান্ত হচ্ছে। চলতি নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশটি গরুর মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে পাবনায় এ রোগে কোনো গবাদি পশু মারা যায়নি।
বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা গ্রামের শহিদুর রহমান জানান, লাম্পি রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গুটি হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে গরুর শরীরের তাপমাত্রা (জ্বর) বেড়ে যায়। আক্রান্ত গরুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দু-তিন দিনের মধ্যে গুটিগুলো ফেটে কষ (রস) ঝরে। একপর্যায়ে ক্ষতগুলো পচে গরুর শরীর থেকে মাংস খসে পড়ে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।
সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের পল্লী পশু চিকিত্সক মো. শাহিন বলেন, আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতস্থান শুকানো, শরীরের চামড়া চর্মরোগ থেকে রক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ইনজেকশন দিচ্ছেন। এতে গরুর ক্ষতস্থান সেরে উঠছে।এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা পশু চিকিত্সক আমির হামজা বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নামের ভাইরাস নিয়ে কৃষকের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। স্থানীয় পল্লী পশু চিকিত্সকদের চিকিত্সায় অনেক গরুই সুস্থ হয়ে উঠছে। কৃষকদের গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপদেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, এলএসডির কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি। মশা ও মাছির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাবনায় লাম্পি স্কিন ডিজিজে গরু মারা যাওয়ার সংবাদ পাননি তারা।
