সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষণিকের জন্য ফিরে গেল সেই একাত্তরে

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৮

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই বিজয়ের ক্ষণ যেন ফিরে এসেছিল গতকাল রবিবার। বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের সেদিনের ঘটনাটি মঞ্চস্থ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্ররা। এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি নাট্যজন ম. হামিদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ফোরামের মহসচিব হারুন হাবীব। এরপর ধন ধান্য পুস্পে ভরা, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবোরে, দস্যু এলো মেলা, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে ও মুক্তির মন্দিরে গানগুলোর অংশ বিশেষের সঙ্গে লায়লা হাসানের পরিচালনায় দলীয় কোলাজ নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল নটরাজ। দলীয়ভাবে ‘নোঙ্গর তোল তোল’ গানটি সমবেত পরিবেশনের পর নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) কে এম সফিউল্লাহ। ফোরামের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলমের পরিচালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সদস্যরা।

স্বাগত বক্তৃতায় হারুন হাবীব বলেন, এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তথা রেসকোর্সের ময়দানের সাথে মিশে আছে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিজয় ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। আজ এই বিজয়ে ক্ষণে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের।

তিনি আরো বলেন, একদিন হয়তো আমরা থাকবোনা, কিন্তু আমাদের বিজয়ের এই আয়োজন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ভবিষ্যতে এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি কর্পোরশেন। ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, আজকের এই দিনে জেনারেল নিয়াজি মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনরেল অরোরার কাছে আত্নসমর্পন করে। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যখন পাকবাহিনী আত্নসমর্পণ করে তখন নিয়াজি আত্নসমর্পণের দলিলে তার পুরো নাম লেখেনি। আমি তা লক্ষ্য করে তত্ক্ষনাত জেনারেল অরোরাকে বললাম, স্যার উনি পুরো নাম লেখেনি। তখন নিয়াজি পুরো নামটি লিখতে বাধ্য হন।

ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাই তাদের কাছে আমাদের অনেক ঋন। তাদের আত্মত্যাগে আমরা আজ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছি। মুুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণে খুব শিগগিরই রাজধানীর ৩০০ফিট রাস্তাটিকে মুক্তিযোদ্ধা সড়ক হিসেবে নামকরণ করা হচ্ছে বলেও জানান সাঈদ খোকন। সবশেষে জাতীয়সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।