নারায়ণগঞ্জ থেকে দুই শতাধিক তরুণীকে বিদেশে পাচার

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৩৩

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্য র্যাবের হাতে আটকের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পাচারকারী দলের সদস্যদের আটকের সময় উদ্ধার হয়েছে চার তরুণী ও বিপুল সংখ্যক পাসপোর্ট এবং বিমান টিকিট। উদ্ধার পাওয়া এক নারী জানান, ‘অভাব-অনটনে সংসার চালাতে বাবা-মায়ের কষ্ট হচ্ছিল। তখনই গ্রামের এক বোন বলে বিদেশ যাওয়ার জন্য। এর পর এজেন্ট মো. অনিক হোসেন যোগাযোগ করতে শুরু করে। বলে বিদেশ যেতে কোনো টাকা লাগবে না, পাসপোর্টসহ যাবতীয় খরচ তারাই বহন করবে। আর সেখানে গিয়ে ড্যান্স বারে কাজ করতে হবে। বিনিময়ে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন উপহারও পাওয়া যায়। এ সবকিছু শুনে রাজি হই। বিদেশে যাওয়ার পর পালটে যায় পুরো চিত্র।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তরুণী জানায়, বিদেশ নেওয়ার পর এয়ারপোর্ট থেকে একটি গাড়িতে করে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখে তরুণীদের। প্রথম ১০ দিন ড্যান্স বারে নিয়ে তাকে দিয়ে ড্যান্স করায়। কিন্তু এরপর থেকে অসামাজিক কাজ করতে বলে। এতে রাজি না হলে গালাগালি করে, মারধর করে, খাবার দেয় না, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপরও রাজি না হলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অসামাজিক কাজে পাঠায়। সব মেয়েকেই নেশা করিয়ে খদ্দেরের কাছে পাঠায়। একজন খদ্দেরের কাছে গেলে একটি টোকেন দেয়। এভাবে ৫০টি টোকেন জমা দিলে ৫০ হাজার টাকা দেয়। আর প্রতিটি মেয়েকে দিনে আট থেকে ১০টি টোকেন নেওয়ার জন্য বাধ্য করে।’

আরেক নারী বলেন, ‘বাংলাদেশি অনেক মেয়ে দুবাইতে আছে। তাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেউ গর্ভবতী হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কোনো চিকিত্সা দেওয়া হয় না। তাদের দেশেও পাঠায় না। এনিয়ে এজেন্টদের কাছে বলতে গেলে উলটো গালাগালি শুনতে হয়। ’

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া র্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আলেপউদ্দিন জানান, ‘তরুণীদের প্রাইভেট সার্ভিস দেখিয়ে টুরিস্ট ভিসায় বিদেশে নেওয়া হতো। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সিন্ডিকেটই আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে তারা আবারও তাদের প্রলোভন দেওয়া শুরু করে—এবার এমন হবে না। এতে রাজি না হলে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। তরুণীরাও এক পর্যায়ে দ্বিতীয়বার যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায়। তিনি বলেন, এ চক্রে দেশে-বিদেশে ৫০ জনের অধিক সদস্য রয়েছে। এরা বিগত এক বছরে ৭২৯ জন তরুণীকে বিদেশে পাঠিয়েছে। যার মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জের দুই শতাধিক তরুণী রয়েছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।