বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তাই তাদের স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে। পাশাপাশি দেশের দলিত জনগোষ্ঠীকে সংবিধানে বর্ণিত সমান অধিকার, সমান মর্যাদা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া কার্যকর করার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।
গত শনিবার রাজধানীর সিবিসিবি সেন্টারে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আন্দোলনের ৯ম জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিডিইআরএম এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এসডিজির স্লোগান ‘কাউকে পিছনে রাখা যাবে না’ এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, সবাইকে এগিয়ে নিতে পারলেই শুধু প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে সমান মার্যাদা ও অধিকার প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো একটি মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বের বুকে জায়গা করে নিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণ করেছে দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার হার অনেক কম। তাই তাদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ানোর লক্ষ্যে দলিত শিশুদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেকার দলিত যুবক-যুবতীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের পেশা পরিবর্তনে সহায়তা করা হচ্ছে।
সভা প্রধানের বক্তব্যে বিডিইআরএম সভাপতি সুনিল কুমার মৃধা বলেন, অনেক দুঃখের সাথে এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তাই তাদের স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে নিজ নিজ অবস্থানে আওয়াজ তুলতে হবে।
সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিডিইআরএম এর উপদেষ্টা জাকির হোসেন, মুকুল রঞ্জন সিকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিডিইআরএম এর সহ-সভাপতি মনি রাণী দাস। সভাপতিত্ব করেন বিডিইআরএম এর সভাপতি সুনিল কুমার মৃধা।
