জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৪

এম এ মাসুম

 

আমাদের অর্থনীতির আকার বড়ো হচ্ছে, বাড়ছে প্রবৃদ্ধি। গত ১০ বছরে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি জোরালো হওয়াসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভালো করেছে। তারপরও অর্থনীতিতে আটটি বড়ো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক নিয়ে আয়োজন করা সেমিনারে মন্তব্য করা হয়।

এ পাঁচটি চ্যালেঞ্জ হলো—কর্মসংস্থানের অভাব, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের দক্ষতার ঘাটতি, আয়বৈষম্য, প্রবৃদ্ধির শ্রেণি ও অঞ্চলভিত্তিক সুষম বণ্টনের অভাব, খেলাপি ঋণ, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, আমদানি-রপ্তানিতে ভাটা এবং শিল্পের অবকাঠামোগত স্বল্পতার সমস্যা। এ চ্যালেঞ্জগুলো যে আমাদের অর্থনীতির গতিপথকে আরো মসৃণ ও দৃঢ় পথে চলার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করছে, তা খোলা চোখেই দেখা যায়। প্রতি বছর চাকরির বাজারে ২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করছে এবং এটি প্রতি বছর ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে। যে হারে মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে, সে হারে চাকরি বাড়ছে না, ফলে বেকার থাকতে হচ্ছে অনেককে।

জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সোনালি সময় পার করছে। আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন শতকরা ৬৮ ভাগ। জনমিতির পরিভাষায় এটাই হলো একটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। কোনো জাতির ভাগ্যে এ ধরনের জনমিতিক সুবর্ণকাল একবারই আসে যা থাকে কম-বেশি ৩০-৩৫ বছর। বাংলাদেশ এই সোনালি সময়ে পদার্পণ করেছে আরো ৭ বছর আগে (২০১২ সাল থেকে) যা শেষ হবে ২০৪০ এর দিকে।

কিন্তু ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। দেশে কর্মে নিয়োজিতদের বড়ো অংশ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না। তাদের বেশির ভাগ খণ্ডকালীন কাজে এবং কম বেতনে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট বা অর্ধবেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ২১ হাজারে। তাদের মধ্যে ১ কোটি ১৫ লাখ ৬৯ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ২৩ লাখ নারী। দেশে অর্ধবেকারদের ৭০ ভাগেরই বয়স ৩০ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। ‘স্টাডি অন এমপ্লয়মেন্ট প্রডাক্টিভিটি অ্যান্ড সেক্টরাল ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে।

বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মক্ষম জনসংখ্যার দক্ষতা বৃদ্ধি, আয়বৈষম্য কমানো, সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকেই সুষ্ঠু নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এর বাইরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক হয়ে পড়া, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় দপ্তরগুলোকে ছড়িয়ে না দিয়ে এককেন্দ্রিক করে রাখা যে কোনো অর্থনীতির জন্যই নেতিবাচক। আমাদের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির পথে পা দেওয়া দেশের জন্য সেটি আরো খারাপ। পর্যায়ক্রমে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা একটি অর্থনীতির জন্য মানসম্মত ও পর্যাপ্ত শিল্প অবকাঠামো নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।