তবু এমন ঝকঝকে দেশ!

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৭

সার দিনের সব ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। তাদের শিক্ষক পরবর্তী দিনের সময়সূচি সম্পর্কে কিছু বলছেন। শিক্ষকের শেষ শব্দগুলো ছিল—‘সবাই শোনো আজকের ক্লিনিং রোস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় লাইনের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করবে। তৃতীয় ও চতুর্থ সারি করিডোর, সিঁড়ি এবং পঞ্চম লাইনে যারা আছো তারা টয়লেটগুলো পরিষ্কার করবে।’ সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা ক্লাসরুমের পেছনে রাখা সব উপকরণ নিয়ে যার যার প্রতি আসা নির্দেশ পালনে লেগে গেল।

এটি জাপানে সারাদেশের স্কুলগুলোর একটি পরিচিত দৃশ্য। এই দেশে যারা প্রথমবার বেড়াতে যান তারা অবাক হন কীভাবে দেশটি এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলো। অথচ কোথাও ময়লা ফেলার একটা ডাস্টবিন চোখে পড়বে না কিংবা দেখা যাবে না কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ক্লিনারকে। তাহলে সবকিছু এত ঝা চকচকে পরিষ্কার রাখার কাজটি করে কারা?

এর সহজ উত্তর হলো, জাপানের প্রতিটি মানুষই তার দেশকে পরিষ্কার রাখে। ১২ বছরের স্কুল জীবনে, এলিমেন্টারি থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের রুটিনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য সময় দেয়া থাকে। আর বাসা বাড়িতে সন্তানকে বাবা-মা শিক্ষা দেন বাড়িসহ তার চারপাশ পরিষ্কার রাখা তার অন্য পাঁচটা গুরুদায়িত্বের মতোই। তাই নিজের বাড়ি হোক কিংবা প্রতিবেশীর উঠান কিংবা সরকারি রাস্তা হোক, কোথাও ময়লা-আবর্জনা দেখলেই নাগরিকরা সেটি নিজেই পরিস্কার করে ফেলেন। অন্য কেউ সেটা কুড়িয়ে নেবেন সেই অপেক্ষা করেন না। ওরা মনে করেন অন্যের জায়গা নয়, নিজের দেশ পরিষ্কার করছেন। বিবিসিকে চিকা হায়াশি নামের একজন জাপানি নাগরিক বলেন, পরিচ্ছন্নতা কাজ আমাদের স্কুল রুটিনের অংশ ছিল। এই কাজ করে এখানে সবাই আনন্দ পায়। চারপাশ পরিষ্কার রাখার বেলায় কে ধনী, কে গরিব এসব ভাবনা কারো মধ্যেই নেই। স্কুলে পৌঁছেই শিক্ষার্থীরা তাদের জুতা খুলে লকারে রেখে দেয়। আবার বাড়িতেও প্রবেশপথেই জুতা রেখে ভেতরে প্রবেশ করে সবাই।

জাপানিদের এই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসের কিছু কিছু ঘটনা ভাইরাল হয়ে গেছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের খেলা শেষে তাদের সমর্থকরা অভ্যাসবশত স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কার করতে শুরু করে দিয়েছিল। সেই ভিডিও গোটা বিশ্বকে আলোড়িত করেছিল। হাজার হাজার দর্শক খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, টিস্যু কিংবা অন্যান্য জিনিসে স্টেডিয়াম নোংরা করেছিল। খেলা শেষে সবাই যখন স্টেডিয়াম ত্যাগ করে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছিল জাপানিরা তখন কোথা থেকে জানি বস্তা এনে আবর্জনা কুড়িয়ে তাতে ভরতে শুরু করেছিল। অন্যরা যে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে তাদের দেখছে, মজা পেয়ে ভিডিও করছে সেদিকে তাদের খেয়াল করার সময়ই ছিল না।