কমলনগরে গত দুই মাসে প্রায় ২০ হাজার গরু ল্যাপস্কিন ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিকারের ওষুধ নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে। আতঙ্কে উপজেলার ৫৪টি ডেইরি খামারি ও গরু লালনপালনকারি কৃষক।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এ উপজেলায় ১০ থেক ১২ হাজার গরু ল্যাপস্কিন ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলায় এ রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
চর লরেন্স ইউনিয়নের ডেইরি খামারি সাইফুল ইসলাম ফাহাদ বলেন, খামারের ১০টি গরুর সব কটিই আক্রান্ত। চরফলকন গ্রামের আলী হোসেন বলেন, আমার ৫টি গরুর সবগুলোই আক্রান্ত, গুটি ফেটে পুঁজ বের হচ্ছে। চরকাদিরা ইউনিয়নের দিদার হোসেন জানান, তার আক্রান্ত গরু মৃত বাছুর প্রসব করেছে। গাভীটির অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন।
তারা জানান, ব্যাপক সংখ্যক পশু আক্রান্ত হওয়ায় বাজারে ব্যাকটিরিয়াল ওষুধ, আ্যন্টিহিস্টামিন ও পেইনকিলারের সংকট দেখা দিয়েছে। দামও বেশি রাখা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অফিস সাধ্য মতো সেবা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কোমল পানীয় দিতে দেরি করায় দোকানীকে গুলি
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন আক্তারুজ্জামন বলেন, এ রোগের সঠিক প্রতিকার নেই। তবে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিরোধ হিসাবে মশারি, টিনচার ও বায়োডিন ব্যবহারের। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষক ও খামারিদের সেবা দিতে মাঠ পর্যায়ে আমাদের ২২ জন কর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। এ রোগের কোনো ওষুধ ভেটেরিনারি বিভাগের কাছে নেই। এমনকি বাজারেও নেই। তবে পশু আক্রান্ত হওয়ার অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়াল রোগ যেন না দেখা দেয় তার জন্য আমরা অ্যান্টিবায়োটিক, আ্যন্টিহিসটামিন ও পেইনকিলার ওষুধ সাজেস্ট করছি। এ রোগের প্রতিকার হিসাবে গোটফক্সিন ভ্যাকসিনের চাহিদা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে দিয়েছি। তিনি কৃষক ও খামারিদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসি
