১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের শিতলদহ কুচবিহার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু এত বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি শ্রী কালিচরন রায় (৬২)।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিলকৃত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের কাঠগাড়ী গ্রামের স্বর্গীয় প্রাণকৃষ্ণ রায়ের ছেলে শ্রী কালিচরন রায়। মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ৩০ বছর ধরে সাইকেল পাহারা দিয়ে কোনমতে জীবন যাপন করছেন। তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ করার জন্য তিনি তালিকা ভুক্ত হতে পারেননি। সর্বশেষ গত ২০১৭ সালে আবারো ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখনো তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্তি হতে পারেননি।
শ্রী কালিচরন রায় ভারতের সিতলদহ, কুচবিহারে ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এমকে খাদেমুল বাশারের দলে ছিলেন। ২৯ দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধের সময় ক্যাম্প কমান্ডার শ্রী তারাকান সিংহের নেতৃত্বে বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ শত্রমুক্ত হওয়ার পর ১৯৭২ সালে জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অধিনায়ক মুহাম্মদ আতাউল গনী ওসমানীর কাছে রংপুর জেলার কেল্লাবন্দে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।
আরো পড়ুন: ঢামেকে হাসপাতালের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা
শ্রী কালিচরন রায় জানান, অনেক আবেদনের পর তিনি ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা সেখানে রক্ষিত আছে। তার এফ এফ নম্বর ১২৭/২৭ । সেখানে তার নাম ও সহযোদ্ধাদের নাম পেয়ে ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তিনি বর্তমানে এক ছেলে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেজেট প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

