ফার্নিচার বেচাকেনার হাট

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:১৩

সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। শুক্র ও মঙ্গলবার। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। সকাল ১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে হাটের মাঠ ভরে যায় নানারকমের ফার্নিচারে। বিভিন্ন দামের ফার্নিচার মেলে হাটটিতে। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। হাটটির অবস্থান নীলফামারির সৈয়দপুর শহরের উপকণ্ঠে ঢেলাপীর হাট।

হাটে কথা হয় নীলফামারি সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কালিপদ রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, সপ্তাহ খানেক আগে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ঘর সাজিয়ে দিতে হবে। তাই জামাতা হরিপদ রায়কে সঙ্গে এনেছেন।  তিনি খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলনা কিনবেন। দোকান ঘুরে সব জিনিস কিনে নিলেন জামাইয়ের পছন্দ অনুযায়ী।

বিধবা সরলা বেওয়া নিজের ব্যবহারের জন্য একটি চৌকি কেনার জন্য হাটে এসেছেন। মাত্র ৫০০ টাকায় তিনি কমদামি কাঠের চৌকি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ‘কম টাকায় এই হাটে কাঠের জিনিসপত্র মেলে।

শহর ও গ্রাম এলাকার কাঠ মিস্ত্রীরা বাড়িতে বসে এসব ফার্নিচার তৈরি করেন। খাট, আলনা, শোকেস, চৌকি, টেবিল, চেয়ার, টুল, টি টেবিলসহ ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করেন আম, বট, রেইট্রি ও নিম কাঠ। আর দামি কাঠের মধ্যে ব্যবহার করেন কাঁঠাল, জাম, সেগুন, মেহগনি প্রভৃতি।  মাঝে মধ্যে হাটেও অর্ডার নেন এসব মিস্ত্রীরা। পরের হাটে সেসব সরবরাহ করে বাকি টাকা নিয়ে নেন। কাঠমিস্ত্রীরা বা তাদের সহযোগীরা এসব ফার্নিচার ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন বা ভ্যানে করে হাটে আনেন এবং বিক্রি না হলে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যান।

হাট ইজারাদারের পক্ষে আব্দুল মোতালেব জানান, দীর্ঘদিন থেকে হাটটি ফার্নিচারের বেচাকেনার মোকাম হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি হাটে গরু-ছাগল, বাঁশের ডালি-কুলা, রিকশা-বাইসাইকেল, ধান-চালসহ অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘হাটটি যেহেতু উঁচু বালু মাটিতে অবস্থিত সে কারণে বৃষ্টিতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোনো অসুবিধা হয় না। এছাড়া হাটটি সৈয়দপুর-নীলফামারি সড়ক যোগাযোগের কারণে অনেক দূরের ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটে আসেন।

জীবনের প্রয়োজনে মানুষ অনেকেই আসেন সওদা করতে, কেউবা হাটের সওদা নিতে। এসব ফার্নিচারের ক্রেতা মূলত নিম্ন থেকে স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই গরিব মানুষের আসবাবের হাট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে এই ঢেলাপীর হাট। এখানে দামি বা নবাবী খাট ও সোফা পাওয়া যায়।

সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে ৭-৮ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয় এসব ফার্নিচার। সৈয়দপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী খানসামা, পাকেরহাট, নীলফামারী, চড়াইখোলা, তারাগঞ্জ, চিরির বন্দর, রানির বন্দর, চম্পাতলী, বাবড়িঝাড় প্রভৃতি স্থান থেকে আসবাবগুলো আনেন কাঠমিস্ত্রিরা। প্রতি হাটে প্রায় ২ লাখ টাকার আসবাব বিক্রি হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।