২৩ জেলায় দারিদ্র্য হার বেড়েছে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

সারাদেশে দারিদ্র্য হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এলেও দেশের কিছু অঞ্চলে এই হার বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে রংপুর ও কুড়িগ্রামে দারিদ্র্য তুলনামূলক অনেক বেশি। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে ৩১ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে দেশের দারিদ্র্য হার। কিন্তু এর পরেও দেশের কিছু অঞ্চলে দারিদ্র্য হার বেড়েছে। কুড়িগ্রামে ৭০.৮ শতাংশ মানুষ দরিদ্র এবং রংপুরে ৪৩.৮ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। দরিদ্র হার বিশ্লেষণ করে গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশের ২৩ জেলায় দারিদ্র্য হার বেড়েছে। জেলাগুলো হলো—খাগড়াছড়ি (বেড়েছে ২৭.২০%), দিনাজপুর (২৬.৪০%), কিশোরগঞ্জ (২৩.২০%), বান্দরবান (২৩.১০%) মেহেরপুর (১৬.৩০%), নওগাঁ (১৫.৩০%), নবাবগঞ্জ (১৪.৩০%), কুষ্টিয়া (১৩.৯০%), নোয়াখালী (১৩.৭০%) মানিকগঞ্জ (১২.২০%), পটুয়াখালী (১১.৪০%), মাগুরা (১১.৩০%), বগুড়া (১০.৬০%), রাঙ্গামাটি (৮.২০%) লালমনিরহাট (৭.৫০%), কুড়িগ্রাম (৭.১০%), বরগুনা (৬.৭০%), চুয়াডাঙ্গা (৪.২০%), চট্টগ্রাম (২.২০%), ঝিনাইদহ (১.৮০%)। এছাড়া পাবনা, জামালপুর ও লক্ষ্মীপুরে প্রায় দেড় শতাংশ হারে দারিদ্র্য বেড়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানের দুই দিনব্যাপী রিসার্চ এলামনাকের আয়োজন করে বিআইডিএস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জেষ্ঠ্য সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন। সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ। বিভিন্ন সেশনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। দিনের একটি সেশনে কিছু জেলায় দারিদ্র্য হার বৃদ্ধি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র তুলে ধরেন বিআইডিএসের গবেষক জুলফিকার আলী।

দারিদ্র্যের কারণ বিশ্লেষণ করে গবেষণায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের মানুষ বেশির ভাগ দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমজীবীর সংখ্যা বেশি। ফলে হঠাত্ কাজ না থাকলে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া তাদের মধ্যে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও বেশি। এসব অঞ্চলে অবকাঠামোগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য নয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও তাদের অন্তর্ভুক্তি তুলনামূলক কম। দরিদ্র বৃদ্ধি পাওয়া অঞ্চলের মানুষদের ক্ষুদ্র ঋণসহ আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তি তুলনামূলক কম। তা ছাড়া চর অঞ্চলসহ পিছিয়ে পড়া এসব এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দারিদ্র্য হয়ে পড়ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. শামসুল আলম বলেন, বলেন, দেশে দারিদ্র্য কমে আসছে কিন্তু আঞ্চলিক বৈষম্য কমছে না। এসব বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। কুড়িগ্রাম ও রংপুরে ৭১ ভাগ মানুষ দরিদ্র, এটা তো ভাবাই যায় না। সিলেটে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি অথচ সেখানে বেশি রেমিট্যান্স আসছে। এরকম অনেক বৈপরীত্য তথ্য রয়েছে যেগুলো নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বেকারত্বের তথ্য কিছুটা হলেও অতিরঞ্জিত মনে হয়। কেননা, যারা খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানে রয়েছেন তারাও নিজেদের বেকার ভাবেন। দেশে এত বেকার থাকলে তার একটা প্রতিফলন থাকত, হাহাকার থাকত।