n মুনমুন হক
শিশুর ছয় মাস বয়স থেকে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি অন্য যেসব খাবার ও পানীয় দেওয়া হয় তাকেই শিশুর পরিপূরক খাবার বলা হয়। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলেই তার দৈহিক বর্ধন ও মস্তিকের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য তার পুষ্টি চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় শুধু মায়ের দুধ শক্তিচাহিদা পূরণে সক্ষম হয় না। তাই এ সময় তাকে অতিরিক্ত পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক খাবার দিতে হয়। তা নাহলে শিশু অপুষ্টির শিকার হতে পারে। শিশুর জন্মের সময় যে পরিমাণ আয়রন ও জিংক শরীরে জমা থাকে তাও ছয় মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তাই ডায়েটের মাধ্যমে আয়রন ও জিংক অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। এই সময় স্বাভাবিক খাবারে অভ্যস্ত করা না গেলে পরবর্তীতে শিশু খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে। ছয় মাস পর পুষ্টি ও শক্তি চাহিদা পূরণ করা তথা নতুন খাবার চিবিয়ে খাওয়ায় অভ্যস্ত করার জন্য এই পরিপূরক খাবার সঠিক নিয়মে খাওয়ানো খুবই জরুরি। উইনিং ফুড যেমন হওয়া উচিত—
l প্রতিদিন বিভিন্ন রকমের খাবার দিতে হবে, যেমন—খাদ্যশস্য, মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফলমুল, দুধ ইত্যাদি। প্রথম নতুন খাবারটি অবশ্যই নরম ও ভালোভাবে সিদ্ধ হতে হবে।
l প্রতিদিন ৬০০ মিলি মাতৃদুগ্ধ/ইনফ্যান্ট ফর্মুলা।
l আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন—কলিজা, মাছ-মাংস, ডিম ইত্যাদি।
l ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার, যেমন—লেবু, শসা, কমলা ইত্যাদি।
l ছয় মাস বয়স থেকে দুই বছর পর্যন্ত চার থেকে ছয় বেলা খাবার দিতে হবে।
ছয় মাস থেকে নয় মাসের শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি একটি খাদ্য তালিকার নমুনা—
l খিচুড়ি (চাল+ডাল+আলু) দিনে দুই বেলা
l সিদ্ধ ডাল ২-৩ চামচ
l সিদ্ধ সবজি দিনে দুই বেলা
l নরম ফলমূল এক বেলা
l দৈনিক ৪-৫ বেলা খাবার দিতে হবে।
নয় মাস থেকে এক বছরের শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি একটি নমুনা খাদ্য-তালিকা—
l ভাত/রুটি/খিচুড়ি তিন বেলা
l সিদ্ধ ডাল দুই বেলা
l নরম করে সিদ্ধ করা সবজি দুই বেলা
l নরম ফলমূল এক বেলা
l দৈনিক ৬-৭ বেলা খাবার দিতে হবে।
এক্ষেত্রে কিছু লক্ষণীয় বিষয় হলো—
l নতুন খাবারে অভ্যস্ত হতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে তাই ধৈর্য ধরে খাওয়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জোর করে খাওয়ানো যাবে না। এতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে।
l কোনো খাবারে অ্যালার্জি হলে তা বর্জন করতে হবে।
l খাবার পরিবেশনের জন্য ব্যবহূত জিনিসপত্র ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
l খাবার তৈরি করার পর তা দুই ঘণ্টার বেশি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যাবে না, দুই ঘণ্টার মধ্যে তা রিফ্রিজারেটরে রাখতে হবে।
l খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যে তার বর্ধন ও বিকাশ খুব দ্রুত হয়। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিপূরক খাবার সরবরাহ করা উচিত।
লেখক : কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েটেশিয়ান, ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল অ্যান্ড অনলাইন মেডিকেয়ার
