আক্কেলপুরে রেলের জমিতে কাউন্সিলরের বহুতল ভবন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২১

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহর। শহরের স্টেশন রোড এলাকায় বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছোট খাল। সেই খালের মুখে আক্কেলপুর-শ্রীরামপুর সড়কে একটি কালভার্ট রয়েছে। এই কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করছেন পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদিউজ্জামান বদি। তিনি  রেলওয়ের এই জায়গা লিজ না নিয়েই ভবন তুলছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কাউন্সিলর বদি দাঁড়িয়ে থেকে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে খাল ভরাটের কাজ করাচ্ছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে গত চার-পাঁচ দিন ধরে কাউন্সিলর বদি ট্রাকে করে মাটি এনে কালভার্টটির মুখের খাল ভরাট করছেন। কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বৃষ্টি হলে স্টেশন রোড এলাকার সব পানি সড়কের ওপর দিয়ে পার হবে মাঠে। এতে ভালো সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে। কাউন্সিলর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খালটি ভরাট করছেন রেলওয়ের জায়গাটি দখল করার জন্য। তিনি এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন, রেলওয়ের ওই জায়গাতে একটি বহুতল ভবন তৈরি করবেন। সেখানে তিনি এতিমখানা চালু করবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলরের বাসার খুব কাছে একটি এতিমখানা ও মাদরাসা রয়েছে। সেখানে তিনি একটু সাহায্য করলে ওই প্রতিষ্ঠানটি আরো উন্নত হবে। এখানে এতিমখানার নামে খাল ভরাট করে মূলত রেলওয়ের জায়গা দখল করার চেষ্টা করছেন। কাউন্সিলর প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা ভয়ে এতে বাধা দিচ্ছে না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, দীর্ঘদিন থেকে স্টেশন রোড এলাকার পানি ওই কালভার্ট দিয়ে পার হয়ে মাঠে চলে যায়। জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি বানিয়েছে তাদের সুখ-দুঃখ দেখার জন্য। তিনি উল্টো জনগণের সমস্যা সৃষ্টি করছেন।

এলাকার বাসিন্দা আবু কালাম হোসেন বলেন, ‘কালভার্টের মুখ বন্ধ করে খাল ভরাট করতে আমি কাউন্সিলরকে নিষেধ করেছিলাম। তিনি শোনেননি। এখন যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে পানি সব সড়কের ওপর দিয়ে পার হবে।’

ওয়ার্ড কাউন্সিলর বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘সারাদেশসহ আক্কেলপুরে হাজারো অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে, সেদিকে নজর না দিয়ে কেন আপনি আমার দিকে এসেছেন? আপনি এখান থেকে চলে যান। আমার কাজ আমাকে করতে দিন।  

আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার খাতিজা খাতুন বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।’

আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, ‘আমি এখনই বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ইত্তেফাক/নূহু