ফেসিয়াল ফিটনেস

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৪

 

নিজেকে সুন্দর রাখতে ফিজিক্যাল ফিটনেসের সঙ্গে ফেসিয়াল ফিটনেসকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিউটি পার্লারে গিয়ে শুধু ফেসিয়াল ম্যাসাজ করালেই হবে না, সঙ্গে ওয়ার্কআউটও করতে হবে। কয়েকজন ফিটনেস এক্সপার্টের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

শরীরের বাকি অংশের মতো মুখও ফিট রাখা দরকার। মুখের মাংসপেশি ও ত্বকের নিয়মিত যত্নের জন্য এক্সারসাইজ ও খাওয়াদাওয়া হলো ফেসিয়াল ফিটনেসের মূল কথা। ফেসিয়াল ফিটনেস বাদ দিয়ে কোনো সৌন্দর্যচর্চাই সম্পূর্ণ হয় না। তাই টানটান সুন্দর মুখ পেতে প্রয়োজন ফেসিয়াল ফিটনেসের কমপ্লিট প্যাকেজ। কৃত্রিমভাবে ফেসলিফট বা অন্য কোনো সার্জারি করানোর বদলে প্রথম থেকেই যদি নিয়ম মেনে ফেসিয়াল ওয়ার্কআউট করা যায় তাহলে মুখ সুন্দর রাখা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তবে মুখের এক্সারসাইজের সঙ্গে স্কিনকেয়ার ও ফেসিয়াল নিউট্রিশনও সমানভাবে জরুরি। অনেকেই শরীর ফিট ও সুন্দর রাখার জন্য জিমে যান, ডায়েটিং করেন, কিন্তু মুখের পরিচর্যার জন্য ভরসা করেন কেবল বিউটি পার্লারের ওপর। এতে স্কিন ট্রিটমেন্ট হয়, কিন্তু মাংসপেশি তো আর টোনড হয় না। আপনার মুখ ফার্ম দেখাবে না ফ্ল্যাবি, সবটাই কিন্তু মাসল টোনের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই ভাবেন যে, ম্যাসাজ করালে মুখের মাসল টোনড হয়। আসলে কিন্তু অতিরিক্ত ম্যাসাজ করালে মুখের মাসল ঢিলে হয়ে যায় এবং মুখ ভারী দেখায়। মানুষের ব্রেন সারা শরীরের সঙ্গে মুখের টোনও রেগুলেট করে। তাই স্ট্রেস, টেনশনে থাকলে মুখের মাসলের ওপরও এর প্রভাব পড়ে, মুখের অনেক অংশেই ভাঁজ পড়ে যায়। এখানেই ফেসিয়াল ওয়ার্কআউটের প্লাস পয়েন্ট। ফেসিয়াল ওয়ার্কআউট শুধু মুখের মাসল টোন ভালো করে না, সঙ্গে মুখ রিলাক্স করতেও সাহায্য করে। তাই যদি মুখের ওপর স্ট্রেসের কোনো ছাপ দেখাতে না চান, তা হলে ফেসিয়াল ফিটনেসের নিয়ম মেনে চলতেই হবে। 

 

বদলে ফেলুন কিছু বদভ্যাস

কিছু কিছু অভ্যাস যেমন গালে হাত দিয়ে বসে থাকা বা ভ্রূ কুঁচকানো মুখের মাংসপেশির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফেসিয়াল ওয়ার্কআউটের সুফল পেতে এ রকম অভ্যাস বদলাতে হবে।  

l হাসতে গিয়ে বা কথা বলতে গিয়ে নাক ও আশপাশের অংশ কুঁচকানো।

l সবসময় হাতের মধ্যে মুখ রেখে বিশ্রাম করা বা টেনশন হলে গালে হাত দিয়ে বসা।

l কথায় কথায় ভ্রূ কুঁচকানো।

l মুখ বাঁকানো, ঠোঁট কামড়ানোর বদভ্যাস ছাড়তে হবে।

l ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে শুতে পারলে ভালো।

 

কিছু সহজ এক্সারসাইজ

প্রথমেই ওয়ার্মআপ হিসেবে করতে হবে তিনটি এক্সারসাইজ। এগুলো হলো—ফেস টাইটনার, গ্রিমেস ও লায়ন।

ফেস টাইটনার :এই এক্সারসাইজটি পুরো মুখের জন্য উপযোগী। ঠোঁট দুটিকে ফাঁক করে যতটা সম্ভব বাতাস মুখের মধ্যে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এ সময় ঘাড় ও মাথা সোজা থাকবে।

গ্রিমেস :এটি মুখের নিচের অংশ, ঘাড় আর বুকের জন্য উপযোগী। এক্ষেত্রে ঠোঁটদুটিকে ক্রমান্বয়ে ডানদিকে আর বামদিকে বাঁকাতে হবে।

দি লায়ন :সোজা হয়ে বসে জিভটি যতটা সম্ভব বের করে থুতনি ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। নেকলাইনের মাসল শক্ত করুন। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকুন। চোখ ও মুখের অংশটি যতটা সম্ভব প্রসারিত করতে হবে।

ওয়ার্মআপ করার পর পুরোদমে ওয়ার্কআউট শুরু করুন। নির্দিষ্ট সিকোয়েন্স মানতে হবে। তার জন্য কোনো এক্সাপার্টের কাছ থেকে চার্ট করিয়ে নিতে পারেন।

কিসিং :এই এক্সারসাইজে ঘাড় সোজা রেখে মাথা উপরের দিকে তুলুন। সিলিংয়ের দিকে তাকান। এবার ঠোঁট দুটিকে চুমু খাওয়ার মতো অবস্থায় নিয়ে আসুন।

লায়ন নেক এক্সটেনশন :ঘাড় সোজা রেখে মাথা উপরের দিকে তুলুন। জিভ বের করে নাকের ডগা ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। চোখ উপরের দিকে থাকবে।

সাইড ফ্লেক্স :সোজা হয়ে বসুন। ঘাড়টি একদিকে বাঁকিয়ে রাখুন।

সেলফ রেসিস্টেড নেক ফ্লেক্স :ঘাড় সোজা রেখে দুই হাতের বুড়ো আঙুল থুতনির নিচে রাখুন। এবার আঙুল দিয়ে থুতনি ঠেলার চেষ্টা করুন। একই সঙ্গে মুখ যাতে উপরে উঠে না যায় তার জন্য আপনাকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

কিউ ই :‘কিউ’ আর ‘ই’ উচ্চারণ করার সময় মুখের অবস্থা যেমন থাকে, ঠিক সেটাই আপনাকে করতে হবে।

ওহ :‘ওহ’ বলার সময় ঠোঁট যেরকম থাকে, এই ক্ষেত্রে ঠিক তাই থাকবে।

রেসিস্টেড লিপস :হাত মুঠো করে হাতের উল্টোদিক ঠোঁটের সঙ্গে লাগান। চুমু খাওয়ার ভঙ্গিতে ঠোঁট দুটো জোড়া করে সামনের দিকে এগোন। ফলে ঠোঁট সামনে এগোলেও প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।

টার্মিনাল এয়ারব্লো :ডান হাতের তালু দিয়ে ডান চোখ চেপে ধরুন। বাম গাল ফুলিয়ে বাম চোখ খোলা রাখবেন।

আইজ কাপিং :দু হাতের তালু দিয়ে দুটি চোখ চেপে ধরুন। ঘাড়, মাথা সোজা রাখুন।

রেসিস্টেড আইব্রো :ভ্রূ দুটিকে আঙুলের সাহায্যে উপরের দিকে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে ভ্রূ দুটিকে ঠেলে নিচের দিকে নামিয়ে রাখতে হবে অর্থাত্ প্রতিরোধ করতে হবে।

ফেসিয়াল ডায়েট

 

l ওয়ার্কআউটের সঙ্গে ভিটামিন, মিনারেলযুক্ত খাবার ডায়েটে রাখতে হবে।

l ভিটামিন এ ত্বক ভালো রাখে। মুখের মধ্যে গর্ত হতে দেয় না। কড লিভার অয়েল, ডিম, গাজর, পালং শাকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

l ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ভালো করে এবং ত্বককে সতেজ রাখে। আটার রুটি, ডিম, সবুজ শাক সবজি খাওয়া ভালো।

l ত্বকে অক্সিজেনের অভাবে বয়সের ছাপ পড়তে পারে। ভিটামিন সি ও পি এই সমস্যা দূর করে।

l ভিটামিন ই ত্বকের শুকনোভাব ধুর করে এবং মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়তে দেয় না। চর্বিছাড়া মাংস, মাছ, আটাতে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

l ত্বকে জেল্লা ফিরিয়ে আনতে ভিটামিন এফ সমৃদ্ধ আখরোট, আমন্ড, অলিভ অয়েল খেতে পারেন।

l মিনারেলের মধ্যে লেসিথিন ত্বক মসৃণ ও ফ্রেশ রাখে। ডিম ও সোয়াবিনে লেসিথিন পাওয়া যায়।

l পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করতেই হবে।

মডেল অর্পিতা