লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার ভাগিনার বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক কলেজছাত্রী ও তার পরিবার। অভিযুক্ত ফিরোজ আলম প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় তার পরিবার।
ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রী অভিযোগ করে জানান, তিনি এক সন্তানের জননী। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। লক্ষ্মীপুর দত্তপাড়া কলেজে পড়ার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ক ম রুহুল আমিনের ভাগিনা ফিরোজ আলমের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।
ছাত্রী আরো বলেন, পরিচয়ের সূত্র ধরে ফিরোজ আলম তাকে জানান, তার মামার (উপজেলা চেয়ারম্যান) মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব। তবে সরকারি চাকরি পেতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। পরে চাকরির কথা বলে তিন ধাপে ফিরোজ আলমের হাতে ৩ লাখ টাকা তুলে দেন কলেজছাত্রী। এরপর চাকরির কথা বলে ফিরোজ কৌশলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্মীপুরের মোবারক কলোনির এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন ফিরোজ আলম। পরে তিনি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় ছাত্রীর কাছ থেকে আরো প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরে ছাত্রী ঘটনাটি তার পরিবারকে জানান।
গত ১৯ নভেম্বর সকালে ঐ ছাত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় ফিরোজ তাকে ফোন দিয়ে জানান, যদি তাকে আরো ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাহলে পূর্বের ধারণকৃত ভিডিও সে ফেরত দেবে। এর কিছুক্ষণ পরেই ফিরোজ তাদের ঘরে ঢুকে কেউ না থাকার সুযোগে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ফিরোজ আলমকে দিগম্বর অবস্থায় আটক করে।
আরো পড়ুন: সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না: প্রধান বিচারপতি
আটকের পর তার মামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমীনের ভয় দেখিয়ে ফিরোজ আলমকে এলাকাবাসীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
গৃহবধূ ও কলেজছাত্রীর মা জানান, আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যদি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাদেরকে প্রাণে হত্যা করা হবে। এদিকে ঘটনার পর থেকে তাদের ভয়ে পালিয়ে এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপন করে আছেন তারা। সেখানে তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে গত ২৪ নভেম্বর তাদের নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতায় তার মেয়ে বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ে করেন। আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পিবিআই নোয়াখালীকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিলো না। এখন জেনেছি, সমাধানের চেষ্টা করছি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
