নখের যত্নে

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৩

l খাদিজা স্বপ্না

 

সুন্দর নখ হাত-পাকে করে তোলে আরো আকর্ষণীয়। আমরা অনেকেই নখের নানা সমস্যায় ভুগি। যেমন :নখ ভেঙে যাওয়া, ফেটে যাওয়া, রং পরিবর্তন হওয়া ইত্যাদি। একটু যত্ন নিলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো বা সমাধান করা সম্ভব। আসলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো নখেরও বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

নখের কোনা ওঠা

নখের কোনা বৃদ্ধি খুবই বিব্রতকর, বেদনাদায়ক ও বিপজ্জনক একটি সমস্যা। এ সমস্যার দ্রুত ও সঠিক সমাধান না করলে নখের অপারেশন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ আঙুলটি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হতে পারে। নখ কাটার সময় গোলাকারভাবে না কেটে সোজাভাবে কাটুন। গোলাকারভাবে কাটা নখের কোনা আঙুলের ভেতর ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ সমস্যা এড়াতে সঠিক সাইজের জুতা পরুন।

হলুদ নখ

কখনো কখনো নখ তার স্বাভাবিক রং হারিয়ে হলুদ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ভ্যাসলিন লাগিয়ে ঘুমালে সমস্যা দূর হবে।

ভঙ্গুর বা ফাটল ধরা নখ

ছত্রাকের আক্রমণে নখে ফাটল ধরে, ভেঙে যায় এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করে। একটি পাত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার নিয়ে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে হাত কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। নখ ভাঙার সমস্যা থাকলে প্রতি সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে নখ ও আঙুল ম্যাসাজ করলে নখ ভাঙা কমে যাবে। রাতে ঘুমানোর আগে ভিটামিন ই ক্যাপসুল হাতের নখে মেখে নিন। কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করুন, যাতে হাতে ভালোমতো রক্ত প্রবাহিত হয়। তাছাড়া ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনি খেতেও পারেন।

নখে ফাঙ্গাসের সমস্যা

পায়ের নখে ফাঙ্গাস আক্রমণের কারণে নখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় আর দেখতেও বিদঘুটে লাগে। যারা বন্ধ জুতা পড়েন এবং পায়ে ঘাম হয়, তারা পায়ের নখের ফাঙ্গাসের সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন। আক্রান্ত নখে লেবুর রস মেখে দশ মিনিট রাখুন। এরপর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। অথবা কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট বানাতে পারেন। এটি ফাঙ্গাস আক্রান্ত নখের উপরে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এভাবে দিনে ২/৩ বার করুন যতদিন পর্যন্ত না ফাঙ্গাস দূর হয়। এছাড়াও জুতার ভেতরে বেকিং সোডা ছিটিয়ে নিতে পারেন।

কাল নখ

অনেক সময় সবজি কাটলে নখে কালো দাগ পড়ে। কাটা লেবু ঘষলে নিমিশেই কালো দাগ দূর হয়ে যায়।

 

পাতলা নখ

দেহে আয়োডিন, জিঙ্ক বা আয়রনের অভাবে নখ পাতলা হয়ে যায়। আবার অনেক বেশি নেলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করার কারণেও নখ পাতলা হয়ে যায়।

অমসৃণ নখ

নখ লম্বালম্বীভাবে অমসৃণ হলে সমস্যা নেই, কিন্তু আড়াআড়িভাবে অমসৃণ হলে চিকিত্সকের সাহায্য জরুরি। এটি পুষ্টির অভাব, ক্যালসিয়ামের অভাব এবং অন্য কোনো রোগের উপস্থিতি নির্দেশ করে। পরিচ্ছন্ন নখ কেবল হাত-পায়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে না, একই সঙ্গে এটি ব্যক্তিত্বের পরিচয়ও বহন করে। ঝকঝকে, আকর্ষণীয় সুন্দর নখ সবার নজর কাড়ে। নখের সৌন্দর্য ঠিক রাখতে সপ্তাহে একদিন পারলারে যাওয়া সম্ভব না হলেও ঘরেই পেডিকিওর ও মেনিকিওর করে নিন।

মেনিকিওর ও পেডিকিওর

হাত-পায়ের নখে ভেসলিন লাগিয়ে নিন। একটি বালতিতে কুসুম গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল, এক চিমটি লবণ ও শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এতে হাত-পা ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর নরম ব্রাশ দিয়ে নখ ঘষে পরিষ্কার করে তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন। এরপর নেলকাটার দিয়ে পছন্দমতো আকৃতিতে নখ কেটে নিন। নেল ফাইল দিয়ে ঘষে নখ চাহিদামতো আকারে নিয়ে আসুন। এতে আপনার নখ শক্ত থাকবে। সহজে ভাঙবে না। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিতে হবে। এবার বাফার দিয়ে নখের ওপরের লেগে থাকা ময়লা ঘষে পরিষ্কার করে নিন, এতে নখের হলদেটে ভাব দূর হবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে। সবশেষে ময়েশ্চারাইজার দিন।

নখের যত্নে ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খান। মূলত সুষম খাবার আপনার দেহের সব চাহিদা পূরণ করতে পারে। সাপ্তাহিক যত্নের পাশাপাশি প্রতিবার গোসলের সময় ছোট ব্রাশ দিয়ে নখ ঘষে পরিষ্কার করে নিন। নখে এক সপ্তাহের বেশি নেলপলিশ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। মাঝে অন্তত দুদিন বিরতি দিয়ে আবার নেলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত নেলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করলে নখ ড্রাই হয়ে যায়। তবে নখে গুরুতর সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেবেন।

 

মডেল সামিয়া