শীত মানেই পিঠাপুলির দিন। গ্রাম বা শহর এসময় পিঠার স্বাদ নিতে আকুল হয়ে পড়ে। তাই আমাদের এ আয়োজনে পিঠাপ্রেমীদের জন্য রইল জনপ্রিয় কয়েকটি পিঠার রেসিপি। এগুলো দিয়েছেন ফাহমিদা সুলতানা ও ছবি তুলেছেন তন্ময় মির্জা
বিবিখানা পিঠা
উপকরণ :চালের গুঁড়া ১ কাপ, গুড় ১ কাপ, দুধ ঘন ২ কাপ, নারিকেল ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ কাপ, পানি সামান্য, ঘি ১ চা চামচ।
প্রণালি :সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে আস্তে আস্তে মাখাতে হবে। যেন বেশি পাতলা বা ভারী না হয়। এলাচ গুঁড়া শেষে দিয়ে একটি সসপ্যানে ঘি মেখে বড় একটি প্যানে পানি দিয়ে নিচে একটি স্ট্যান্ড দিয়ে সসপ্যান বসাতে হবে। এরপর মাখানো উপকরণগুলো ঢেলে দিতে হবে। উপকরণগুলো সসপ্যানে ঠিক মতো বসে গেলে ছোট ছোট পিস করে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর পরিবেশনযোগ্য হলে সুন্দরে করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার বিবিখানা পিঠা।
নারিকেল নাড়ু
উপকরণ :নারিকেল কোড়ানো ১ কাপ, চিনি দেড় কাপ, ছোট এলাচ ২টি, দারুচিনি ২টি, চালের গুঁড়া ভাজা।
প্রণালি :প্রথমে নারিকেল কোড়াতে হবে। একটি প্যানে নারিকেল কোড়া, চিনি, মসলা একসঙ্গে নিয়ে ভালোভাবে নেড়ে বেশ খানিক ক্ষণ রান্না করতে হবে। নারিকেলের রং লাল হয়ে এলে চুলা থেকে নামাতে হবে। এরপর একটু ঠাণ্ডা হলে নারিকেল হাতে নিয়ে গোল গোল করে নাড়ু বানিয়ে ভাজা চালের গুঁড়ার সঙ্গে মিশাতে হবে। এরপর সুন্দর একটি বাটিতে পরিবেশন করতে হবে।
সেমাই পিঠা
উপকরণ :দুধ (ঘন) ১/২ কেজি, চালের গুঁড়া ১ কেজি, পানি ১/২ কাপ, খেজুর গুড় ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, নারিকেল ১/২ কাপ।
প্রণালি :একটি পাত্রে পানি দিয়ে সামান্য লবণ দিয়ে ফুটাতে হবে। এরপর চালের গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ করে খামির করে ছোট ছোট সেমাই আকারে বানাতে হবে। অন্য একটি পাত্রে দুধ ও নারিকেল জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এরপর সেমাই দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। অন্য একটি পাত্রে খেজুর গুড় সামান্য পানি দিয়ে, জ্বাল দিয়ে ঘন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে, সেমাই মিশিয়ে দিতে হবে। যখন উপকরণগুলো মিশে যাবে, তখন সুন্দর করে পরিবেশন করতে পারবেন।
ছিট রুটি
উপকরণ :চালের গুঁড়া ১ কাপ, পানি ১ কাপ, লবণ সামান্য, ঘি বা তেল ১ চা চামচ, ডিম ১টি।
প্রণালি :পানির সঙ্গে চালের গুঁড়া সামান্য লবণ দিয়ে ও একটি ডিম দিয়ে ভালো করে গুলিয়ে নিতে হবে। তবে যেন ঘন না হয় আবার বেশি পাতলাও না হয়। এরপর একটি প্যানে ঘি দিয়ে গুলানো আটা হাত দিয়ে প্যানের ভিতর ঘন করে ছিটিয়ে দিতে হবে। যেন রুটির আকার হয়, সেটা খেয়াল করতে হবে। রুটি ভাজা ভাজা হলে ভাঁজ করে নামাতে হবে। সবশেষে গরম গরম মাংসের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।
দুধ পুলি পিঠা
উপকরণ :চালের গুঁড়া ২ কাপ, পানি ১ কাপ, লবণ সামান্য, দুধ ১/২ কেজি (ঘন), কনডেন্সড মিল্ক ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, নারিকেল কোড়া ১ কাপ, জাফরান সামান্য।
প্রণালি :প্রথম ধাপ :নারিকেল, গুড়, চালের গুঁড়া দিয়ে একটি পাত্রে পুর তৈরি করতে হবে। এরপর ভালোভাবে নাড়াতে হবে, যখন মাখা মাখা হবে, তখন নামাতে হবে চুলা থেকে।
দ্বিতীয় ধাপ :একটি প্যানে এক কাপ পানি দিতে হবে। ভালোভাবে ফুটে উঠলে সামান্য লবণ দিতে হবে। তারপর কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হবে। এর কিছুক্ষণ পরে ২ কাপ চালের গুঁড়া অল্প অল্প করে দিয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নামাতে হবে চুলা থেকে। এরপর রুটি বানিয়ে ছোট কাপ দিয়ে কেটে ভিতরে নারিকেলের পুর দিয়ে ডিপ ফ্রাই করে ভেজে বাদামি রং হলে চুলা থেকে নামাতে হবে।
তৃতীয় ধাপ :এরপর ১/২ কেজি ঘন দুধ ও কনডেন্সড মিল্ক একসঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা হলে ভাজা পিঠা দুধে ছেড়ে দিতে হবে। সবশেষে জাফরান দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
বিফ কিমা পিঠা
উপকরণ :কিমা ১/২ কেজি, চালের গুঁড়া ২ কাপ, পানি ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, আদা পেস্ট ১ চা চামচ, জিরা পেস্ট ১/২ চা চামচ, রসুন পেস্ট ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, তেজপাতা ২টি, এলাচ, দারুচিনি ২টি, ধনে পাতা সামান্য।
প্রণালি :প্রথমে একটি প্যানে পানি দিয়ে ফুটাতে হবে, পানি ফুটে উঠলে লবণ দিতে হবে। আদা বাটা দিয়ে চালের গুঁড়া দিয়ে নেড়ে কাওয়া করে নিতে হবে ভালোভাবে, এরপর ভালো করে মাখিয়ে রুটি বানিয়ে তা ছোট ছোট করে কেটে ভিতরে কিমা দিয়ে পুর করে ডিপ ফ্রাই করতে হবে, বাদামি রং হলে নামাতে হবে।
কিমা বানানোর পদ্ধতি :গরুর মাংসের সঙ্গে আদা বাটা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ, লবণ, কাঁচা মরিচ, তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, পানি ও এক টেবিল চামচ তেল একটা পাত্রে দিয়ে ভালোভাবে একটু ভাজা ভাজা করে রান্না করতে হবে, চুলা থেকে নামানোর আগে ধনে পাতা কুচি দিতে হবে।
