চলছে মহান বিজয়ের মাস। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বিজয়ের যে সূর্য স্থিমিত হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ ও জাতির সংকটে তারুণ্যের ভূমিকা সবসময়ই প্রশংসনীয়। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে রয়েছে সাফল্যের অনেক সম্ভাবনা। আর এ সম্ভাবনাকে সম্ভব করতে পারে তারুণ্যের শক্তি। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন—
মো. আবু হানিফ
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে
মুনতাছির মুজাহিদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস, গৌরব ও গর্বের মাস। এ গৌরব আপনা আপনি আসেনি, এসেছে মুক্তিকামী বাঙালিদের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণের মুক্তিযুদ্ধে একটি বিরাট অংশ ছিল তরুণসমাজ। তারুণ্যের অদম্য শক্তি, হার না মানা মনোভাব মুক্তিযুদ্ধকে করেছিল বেগবান। কিন্তু বিজয়ের ৪৮ বছর পরেও এসেও আমরা দেশে অভ্যন্তরীণ কিছু দুষ্টচক্র আমাদের শোষণ করছে। দুর্নীতি, অশিক্ষা, কুসংস্কার এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান। একদিকে দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে, অন্যদিকে সামাজিক, রাজনৈতিক কিছু বিষয় দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। আমাদের সমাজ এখনো অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় সবার আগে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, হতে হবে আত্মনির্ভরশীল, স্বাবলম্বী, উদ্যমী, পরিণত হতে হবে দক্ষ মানবসম্পদে। দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। তাহলেই দূর হবে বেকারত্ব, চাকরি না পাওয়ার হতাশা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একতাবদ্ধ হতে হবে
অরিন বিশ্বাস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণের রক্ত শপথ নিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা ১৯৭১ সালে বিজয়ের লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলেন। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হলেও তাদের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনো পুরোপুরি হয়নি। জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়তে হলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একতাবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ আমাদের প্রজন্ম নিজের চোখে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। সাধারণ বাঙালির ওপর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দমন, পীড়ন, শোষণ আর ঐক্যবদ্ধ মুক্তিকামী বাঙালির বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার গল্প আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, চেতনা, দেশকে ভালোবাসা, দেশের জন্য কিছু করার আগ্রহের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যত্।
দুর্নীতিমুক্ত, বৈষ্যমহীন এক দেশ চাই
নাদিয়া হিয়া শ্রাবণী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাঙালির সাহসিকতা, দেশপ্রেম, একতাবদ্ধতার ফসল মহান বিজয় দিবস। দেশ আজ উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তবে সে ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি উন্নয়নের বড়ো বাঁধা। সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এছাড়াও এখনো অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে এ দেশের নারীসমাজ। বিজয়ের এত বছর পরেও দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তা এবং সচেতনতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী হলো নারী, আর এই নারীদের পেছনে রেখে দেশের উন্নতি অসম্ভব। বর্তমানে রাজনীতি, নেতৃত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, খেলাধুলা সর্বত্রই তারা নিজেদের প্রমাণ করে চলেছেন। মহান বিজয়ের মাসে প্রত্যাশা করি— এমন একটি সমাজ, যে সমাজে থাকবে না নারী-পুরুষের ভেদাভেদ। নারীরা থাকবে স্বাধীন, দেশের উন্নয়নে থাকবে নারীদের অংশগ্রহণ। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি সততা, ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে নিজের কাজগুলো ঠিকভাবে করি, তাহলে আমার বাংলা একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে।
