প্রতীক্ষা কাটিয়ে আগামী ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসের অভিষেক সমাবর্তন। সমাবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম সমাবর্তন নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের ভাবনার
কথা জানাচ্ছেন— মাহমুদুল হাসান
মিথিলা সরকার (গণিত, ৫ম ব্যাচ)
দীর্ঘ সময় পরে এসে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে শামিল হতে পারাটা সত্যিই অনেক বড়ো প্রাপ্তি। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ঘটে যাওয়া সব স্মৃতিগুলো পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। ঠিক যেভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ, উত্থান-পতনের মাধ্যমে, শিক্ষকদের সহায়তায়, ছোটো-বড়োদের শাসন-স্নেহে আর বন্ধুদের খুনসুটি, হাসি-কান্নায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার পর সব ছেড়ে আসা আবার তেমন ভাবেই শিক্ষকদের সান্নিধ্যে, অগ্রজ, অনুজ এবং সহপাঠীদের আবার একটি বড়ো মিলনমেলায় উত্তীর্ণ হওয়া তারপর সবশেষে আবার বিদায়।
মো. মোতাহের হোসেন (বাংলা বিভাগ, ৬ষ্ঠ ব্যাচ)
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আমাদের অনেক দিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আমি একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে সব সময় আশা করি আমাদের সমাবর্তনটাও হবে অন্য আট-দশটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ, কোনো কিছুতেই যেন অপূর্ণতা না থাকে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীই যেন পূর্ণতা নিয়ে ফিরে আসতে পারে। বিশ্বমানের একজন ভালো বক্তা আশা করছি। যার বক্তব্য শুনে আমরা অনুপ্রাণিত হব আরো বেশি। কেননা এই জিনিসগুলোই সারাজীবন আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। শুধু তাই নয়, এই জিনিসই আমাদের এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করবে।
সোহান শেখ (অর্থনীতি, ৭ম ব্যাচ)
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে এ দিনটিকে ঘিরে একজন শিক্ষার্থী নানারকম স্বপ্ন বুনে থাকে। পুরোনো সব বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়র বড়ো ভাইবোনদের সঙ্গে একটা মিলনমেলায় দিনটি পরিণত হয়। ক্যাপ উড়ানো, স্থিরচিত্র ধারণ, আড্ডা, গল্প, পুরোনো স্মৃতির মাঝে যেন ফিরে যায় সবাই। আড্ডার ফাঁকে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষার্থী ও সদ্য শিক্ষা সম্পন্নকারীদের মাঝে ক্যারিয়ার বিষয়ের সেতুবন্ধন তৈরি, ভবিষ্যত্ দিকনির্দেশনা বা কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে ধারণা নেওয়া। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিজে অনেক আনন্দিত এবং গর্বিত।
মাজহারুল ইসলাম হানিফ (ইংরেজি, ৭ম ব্যাচ)
একটা সময় কুমিল্লার মানুষজনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঠিকমতো চিনত না। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে গোটা জাতি এক নামে চেনে। আমি মনে করি, সমাবর্তনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠটি দেশ ও দেশের বাইরে আরো পরিচিতি লাভ করবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কুবিয়ানরা সুনামের সহিত কর্মরত আছেন। সব রথি-মহারথিরা একই ছাতার নিচে অবস্থান করবেন, ভাবতেই ভালো লাগা কাজ করছে। সর্বোপরি বলতে চাই যে সমাবর্তনটা আমাদের, কাজেই আসুন প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে সমাবর্তনটাকে সফল ও সার্থক করে তুলি।
