পড়াশোনা করি আয়ও করি

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২৮

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

ছোটোকাল থেকেই তার আঁকাআঁকির প্রতি খুব ঝোঁক। কোনো একটা কিছু দেখলেই হলো। হুবহু এঁকে দিতেন। তখন ক্লাস সেভেনে পড়েন। ঈদে অনেকের হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিলেন। অমনি সবাই চমকে গেল। এই মেয়ে এত সুন্দর মেহেদি লাগাতে পারে। এভাবেই এক সময় তার মনে হলো, মেহেদি লাগিয়ে তো কিছু ইনকাম করা সম্ভব। বিভিন্ন জায়গা থেকে মেহেদি আঁকার জন্য তার ডাক পড়ল এরই মধ্যে। ২০১৮ সাল থেকে তার প্রফেশনালি মেহেদি আঁকার শুরু। তিনি একজন হেনা আর্টিস্ট। নাম জান্নাতুল মাওয়া মৌ। স্নাতক শেষ করেছেন বরিশাল বিএম কলেজ থেকে। পাশাপাশি মানুষের হাতে সুন্দর করে মেহেদি  লাগিয়ে দেন।

নিজে অসংখ্য রকম ডিজাইন তো জানেনই। আবার ক্লাইন্ট ডিজাইন দেখিয়ে দিলে সেভাবে কাজ করেন। যে কেউ কল দিয়ে বাসায় নিয়ে তাকে দিয়ে মেহেদি আঁকাতে পারে। তবে সেজন্য আগে বুকিং দিতে হবে। মৌ-এর হাত খরচের টাকা মেহেদি আঁকা থেকেই আসে। পরিবারের সবাই তাকে এ কাজে সমর্থন দেয় বলে তিনি জানান। একজন বৌয়ের হাতে মেহেদি লাগাতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগে। তবে পারিশ্রমিক হিসাবে নেন মাত্র ১৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা। ফেসবুকে Mehedi By Mou নামে একটি পেজ আছে তার; যা ২০১৭-এর মার্চে তার বন্ধুর ছোটো বোন খুলে দেয়। মৌ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি ব্রাইডাল মেহেদি পড়িয়েছেন। আর নন পার্টি হেনার পরিমাণ শ খানেক। মৌ-এর সঙ্গে দুজন মেয়ে সহকারী হিসেবে কাজ করে। তারা স্টুডেন্ট বলে জানান তিনি। মৌ জানালেন, এই কাজ করতে গিয়ে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না। সমস্যা হয় কাজ করে রাত-বিরাতে বাসায় ফিরতে। তবে স্টুডেন্টরা যাদের আঁকার হাত ভালো, তারা অনায়াসে এই কাজের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারে—এমনটাই মৌ মনে করেন। সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো এই কাজে খুব একটা মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না।