সম্প্রতি শেষ হওয়া মিস ইউনিভার্সে টপ ফাইভে স্থান করে নেওয়া মারিয়া মুমু পড়ছেন মনোবিজ্ঞান নিয়ে ‘এ’ লেভেলের দ্বিতীয় বর্ষে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মানুষের যে প্রচলিত ভুল ধারণা, তা ভেঙে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মুমু তার ছয় বন্ধুকে নিয়ে শুরু করেন সংগঠন ‘মশাল’। এ বিষয়ে মুমু বলেন, ‘যখন কোনো মানুষকে সাহায্য করতে পারি, তখন নিজের কাছে খুবই ভালো লাগে। আর সেই ভালোলাগা থেকে একটা সংগঠন করার কথা চিন্তা করি। মশাল-এর প্রথম ইভেন্ট ‘বাঁধ ভেঙে দাও’। যেখানে মিস ইউনিভার্সের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি উত্তরা ক্লাবে আয়োজিত হবে।’
আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক তথ্য দিয়ে এবং থেরাপিস্ট ও পরামর্শদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবে মশাল। তরুণদের চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব দক্ষতা গঠন, আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস ফেরাতে চায় সংগঠনটি। কিশোর-কিশোরীদের জীবন সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যা সমাধানের কৌশল শেখানোর প্রশিক্ষণ দেবে এবং পিতামাতাকে তাদের সন্তানের হতাশাজনক বা আত্মহত্যা-প্রবণতা সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে মশাল আত্মহত্যা প্রতিরোধ করবে, এটাই মশালের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি পিতামাতা ও সন্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে ও পুনর্গঠনে কাজ করবে মশাল। মশাল এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে থাকবে একে অন্যকে বুঝার ক্ষমতা, থাকবে সমর্থন ও সহযোগিতা।
তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে সব সময় আমার মায়ের সাপোর্ট পেয়েছি। যখন আমার বয়স ৩ বছর, তখন আমার বাবার সঙ্গে মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। এর পর থেকে মায়ের কাছেই বড় হয়েছি। মা কোনো সময় আমার কোনো কাজে বাধা দেয়নি। সব সময় আমাকে উত্সাহ দিয়ে গেছেন। আমার বয়স যখন ১৫ বছর, তখন থেকেই আমি উপার্জন করা শুরু করি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। যখন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার বিষয়ে কথা বলি, তখন মা-সহ সবাই উত্সাহ দিয়েছে। সহপাঠীরা আমাকে নানা বিষয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে। যখন শুনি কেউ আত্মহত্যা করেছে, তখন খুবই কষ্ট লাগে। মশালের মাধ্যমে যদি কাউকে বাঁচাতে পারি, তাহলেই এটি পূর্ণতা পাবে। আমাদের সমাজে এখনো মানসিক ডাক্তারের কাছে গেলে মনে করা হয় সে পাগল। যা একেবারেই ভুল ধারণা। যেভাবে শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন ঠিক তেমনই মানসিক সুস্থতাও জরুরি। কেননা মানসিক সমস্যা থাকলে তার কোনো কিছুই ভালো লাগে না, নিজেকে শেষ করে দিতে চায়। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য একজন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।’ g
