‘দুরন্তপনার মাঝেই আছে প্রজন্মের সৃষ্টিশীলতা’

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১

—মো. মাসুম সরকার, উপাধ্যক্ষ, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকশিত হবে মূলত খেলাধুলা ও দুরন্তপনার মধ্য দিয়েই। ওদের মাঝে ক্ষণিকের ঝগড়া হয়, আবার সব ভুলে একে অন্যকে ‘সরি’ বলে, একটা ক্যান্ডির বিনিময়ে ভালো কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ হয়, বাচ্চাদের শিক্ষক বানিয়ে ক্লাস নিতে বলা হয়—এমনই সব ভিন্নধর্মী শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয় সৃষ্টি শিক্ষাপরিবার। এদের জনপ্রিয়তার পেছনে সৃজনশীল শিক্ষা, তথা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের বাইরেও আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রায় প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এতটাই স্নেহশীল তথা বন্ধুসুলভ যে শিক্ষার্থীরা ভোর হতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন স্কুলে আসবে। অনুরূপ তারা স্বেচ্ছায়ই পড়া তৈরি করে এবং নিয়মিত পড়াশোনা করে।

এ বিষয়ে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার উপাধ্যক্ষ মো. মাসুম সরকার বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু স্বেচ্ছায়, স্বপ্রণোদিত হয়েই নয়, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করছে। এর নেপথ্যের কারণ হলো আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. শরীফুল ইসলাম রিপন পিএমজেএফ এই পরিবারের শিক্ষক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকলকে নিয়োগের পর অবধারিতভাবে যে প্রশিক্ষণটি দেন, সেটি হলো আচরণ। এখানে বাচ্চাদের স্বভাবসুলভ যে স্বাভাবিক দুষ্টুমি, তা করতে বাধা দেওয়া হয় না একদমই। আমরা বাচ্চাদের পরম স্নেহে স্কুলে আসতে ও পড়তে উদ্বুদ্ধ করি। এখানে পড়া না পারা বা হোম ওয়ার্ক না করার শাস্তি হলো খেলায় অংশগ্রহণ থেকে সাময়িক বিরত থাকা। এমন সব মজার খেলাধুলার আয়োজন থাকে, যা থেকে বঞ্চিত হতে ওরা পারতপক্ষে চায় না। ফলে নিত্যকার স্কুল, পড়া—এসব ওরা স্বেচ্ছায়ই করে থাকে।

আর শিক্ষাটাকে আমরা বাস্তবতার নিরিখে অধিকতর সৃজনশীল করার প্রয়াস রাখি প্রতিনিয়তই। এই আন্দোলনে আমাদের সাফল্যের নায়ক হলেন সৃষ্টির সুযোগ্য শিক্ষকগণ। তারা মুখস্থ বিদ্যাকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে অধিকতর মূল পাঠ্যের চর্চা অব্যাহত রাখেন; আমরা সর্বোচ্চ জিপিএ-এর উদ্দেশ্যে মুখস্থ না করে বুঝে পড়ার ব্যাপারেই বেশি উত্সাহিত করি।

একই সঙ্গে আমরা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে শিক্ষামূলক কার্যক্রমেই বেশি সময় দিয়ে থাকি। সব মিলিয়ে আমরা সৃজনশীল শিক্ষাদানের মাধ্যমে সৃজনশীল প্রজন্ম তৈরির আন্দোলনে নিয়োজিত। দুই যুগ আগে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে টগবগে তরুণ ড. শরীফুল ইসলাম রিপন পিএমজেএফ ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সৃষ্টি কলেজ অব টাঙ্গাইল। সেই থেকে শুরু। সীমিত সময়ের ব্যবধানে টাঙ্গাইল ও এর আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষা ও সেবায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটির নাম। মাত্র দুই যুগে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ প্রস্তুতি চলছে সৃষ্টি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল ও সৃষ্টি ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম।’  g