হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৫৯

দেশে এখন পুরোপুরি নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের মধ্যে যে উত্সাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে তা এক কথায় অসাধারণ। বিগত নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো তেমনভাবে অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচন একপ্রকার পানসে হয়ে গিয়েছিল বলা যায়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যতটুকু বোঝা যাচ্ছে তাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল দল তাদের নির্বাচনী প্রচারণা আরম্ভ করে দিয়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নানাপ্রকার প্রতিশ্রুতির ভাণ্ডার নিয়ে হাজির হচ্ছেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশের। এখন ভোটাররাই বেছে নেবেন কাকে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করবেন। একটা বিষয় আমাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, জনগণ এখন পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়েই অধিক সচেতন। কোনোপ্রকার চাপ প্রয়োগ করার মাধ্যমে যে তাদের থেকে ভোট আদায় করা সম্ভব নয়, সেকথা বলাই বাহুল্য। এবং এই বিষয়টা প্রার্থীরাও বেশ ভালোভাবেই জানেন বলে মনে করি।

নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে? আর তাদের চাওয়া-পাওয়াটাই বা কী? আমাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে দেশের শিক্ষিত তরুণদের একটা বড় অংশই বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। সর্বপ্রথম কাজ হবে এই তরুণদের বেকারত্ব নামক অভিশাপ থেকে বের করে এনে কর্মমুখী জীবনে প্রবেশ করানো। এই কাজটি মোটেও সহজ নয়। তবুও সেটা করতেই হবে। দেশে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কর্মের কোনো সংযোগ নেই। এজন্য শিক্ষাজীবন শেষ করার পর অনেক তরুণ কর্মজীবনে প্রবেশ করে খেই হারিয়ে ফেলছেন। তারা হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছেন সহজেই। তাদের এই অন্ধকার জগত থেকে বের করে আনার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে কীভাবে আরো যুগোপযোগী করা যায় সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটা বিষয় হলো সারাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। গ্রামের কিশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত সকলেই আজ এই মাদকের ভয়াল থাবায় ক্ষতবিক্ষত। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে তা রীতিমত ভীতি জাগানিয়া। এই মাদক যেমন আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে তেমনি আমাদের যুব সমাজকে ক্রমশ ধ্বংসের চোরাবালিতে নিমজ্জিত করছে। সরকার মাদক নির্মূলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। আরো পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করার জন্য তরুণ  সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

আমাদের উন্নতি এবং অগ্রগতির জন্য বরাবরই সবচেয়ে বেশি হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে দুর্নীতি। এটা আমাদের জন্য এমনই এক বিষফোঁড়া যা আমাদের দীর্ঘস্থায়ীভাবে সমস্যায় ফেলে রেখেছে। দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে প্রবেশ করে বসে আছে যা আমাদের সমস্ত অর্জনকে ম্লান করে দিতে বসেছে। মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়াতে দুর্নীতির মাত্রা কিছুটা হলেও কমে এসেছে। তবে এতে খুশি হওয়ার মতো বিশেষ কিছু নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো সামর্থ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে অবশ্যই দুর্নীতিকে রুখে দেওয়া সম্ভব।

সর্বোপরি এদেশের তরুণ সমাজের প্রধান চাওয়া হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং যারা পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন তারা অবশ্যই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বর্তমান সময়ে দেশ নিঃসন্দেহে একটি গতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। এই গতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের রাজনীতিবিদদের সকল প্রকার সংকীর্ণতা পরিহার করে শুধু দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই মিলে যদি দেশের জন্য কাজ করে যেতে পারি তাহলে আমাদের অগ্রগতির দরজা কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না।

n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়