টাকা ব্যবহারে সচেতনতা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০১

টাকা ব্যবহারের ব্যাপারে আমরা কতটা সচেতন? কাগজের নোটের দিকে তাকালে মনে হয়, বাংলাদেশে টাকার কোনো মূল্য নেই। ছেঁড়া টাকা, পোড়া টাকা, লেখাযুক্ত টাকা, পিনযুক্ত টাকা এবং ময়লাযুক্ত টাকায় ভরে গেছে দেশ। এসমস্ত টাকা লেনদেন করতে কষ্ট হয়। প্রায়শই সমস্যাযুক্ত টাকার কারণে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। টাকা ব্যবহারে অসচেতনতার কারণেই এ অবস্থা। এজন্য দায়ী কয়েক শ্রেণির মানুষ, যেমন নেশাখোর, অসচেতন অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকগুলো। নেশাখোররা টাকা পুড়িয়ে ফেলে। অসচেতন অভিভাবকেরা শিশুদের হাতে টাকা দিয়ে টাকা ছিঁড়ে ফেলার পথ তৈরি করেন। কয়েক শ্রেণির ব্যবসায়ীর হাতেও অসংখ্য টাকা নষ্ট হচ্ছে। ভেজা হাতে টাকা নিয়ে টাকা ভিজিয়ে মাছ ব্যবসায়ীরা যেমন টাকার মান নষ্ট করে ফেলছেন, তেমনি তেল ব্যবসায়ীরা তেলযুক্ত হাতে টাকা সপর্শ করে টাকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। ব্যাংকগুলোও টাকা নষ্ট করার বড় মাধ্যম। কারণ টাকায় সিল মারা, টাকায় পিন মারা, টাকায় কাগজ দিয়ে আঠা লাগানোর মতো কাজগুলো করে থাকে ব্যাংকগুলো। এ সকল কার্যক্রমে টাকা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। টাকার মধ্যে লেখালেখি করাও একটি বাজে অভ্যাস। ময়লা হাতে টাকা ধরতেও কোনো দ্বিধা করা হয় না। ফলে টাকা হাত দিয়ে সপর্শ করলে সেই হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ টাকার মধ্যে সকল ধরনের জীবাণু থাকে। যে জীবাণু একজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এজন্য টাকা ব্যবহারে সচেতনতার বিকল্প নেই। বিশ্বের অনেক দেশে টাকা ব্যবহার সম্পর্কিত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা থাকায় টাকা অনেক ভালো থাকে। বাংলাদেশে নষ্ট টাকা বদলানোর সহজ কোনো প্রক্রিয়া না থাকায় অনবরত ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে। টাকা ব্যবহারের সচেতনতা বাড়াতে সরকারি প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংকগুলোকেও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

আছানধনী মিয়া পাড়া, চাপানীহাট,

ডিমলা, নীলফামারী