ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা শুরু থেকে ছিলেন দারুণ আগ্রাসী। তার জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠলেন। এটাকে ব্যাটিং উপদেষ্টা নীল ম্যাকেঞ্জি বলছেন, আগুন দিয়ে আগুন সামলানো। কিন্তু বাংলাদেশের এই আগুনে পরিকল্পনা কাজে দেয়নি। ম্যাচশেষে ম্যাকেঞ্জি তাই বলছিলেন, অতি আগ্রাসন ও অতি আত্মবিশ্বাস ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে।
ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, এই উইকেটে ওয়েস্টইন্ডিজ যেমন গতিতে বল করেছে, সেই গতিকে কাজে লাগিয়েও অনেক রান করার সুযোগ ছিল। তা না করে অতি আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বিপদ ডেকে এনেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত শিখতে পারিনি। ওদের শুরুর দু্ই পেসার কট্রোল ও থমাস বাড়তি গতি পাচ্ছিলো। আমরা জানতাম, ওরা খুব জোরে উইকেটে বল ফেলবে। সাকিব দেখিয়েছে যে, এখানে পেসের ব্যবহারটা আরো ভালো করা সম্ভব ছিল। আমার মনে হয় আমরা অতিত আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা বলের পেস ব্যবহার না করে বরং উইকেটের আড়াআড়ি দিকে বেশি খেলতে চেয়েছি।’
ম্যাকেঞ্জি মনে করছেন, এই অতি আত্মবিশ্বাসই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের কারণ হয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমরা আগুন দিয়ে আগুন সামলানোর চেষ্টা করেছি। অনেক সময় আক্রমণ করার চেয়ে বলের গতি ব্যবহার করেই খেলাটা ভালো। সেটা আমরা করতে পারিনি।’
অবশ্য এই আত্মবিশ্বাসের উত্সটাও বোঝেন ম্যাকেঞ্জি। বাংলাদেশ যে যৌক্তিক কারণেই আত্মবিশ্বাসী ছিল, সেটা স্বীকার করছেন ম্যাকেঞ্জি, ‘আসলে আমরা বেশ কয়েকটা সিরিজ জেতায় টিমের আত্মবিশ্বাসটা একটু বেশি ছিল। আমরা ইদানিং সব ফরম্যাটেই ভালো খেলছি। ফলে আত্মবিশ্বাস ছিল। আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপরও আমাদের বিশ্বাস ছিল। টি-টোয়েন্টিতে বেশি হারে রান স্কোর করতেই হয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো, পাশাপাশি আমরা অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি।’
আর সব মিলিয়ে গতকালকের এই খারাপ পারফরম্যান্সটাকে যুক্তি দিরয়ে বুঝতে চাইলেন ম্যাকেঞ্জি। বাংলাদেশের এই সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যাটিং উপদেষ্টা বলছিলেন, অনেকদিন টি-টোয়েন্টি না খেলা এবং ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টিতে হঠাত্ মানিয়ে নিতে না পারায় এমন হয়েছে, ‘আমরা শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছি বেশ কিছুদিন আগে। পঞ্চাশ ওভার থেকে ২০ ওভারে এলে আসলে অনেক বড় পার্থক্য তৈরি হয়। আমার মনে হয়, আমরা ওয়ানডের সাফল্যে একটু বেশি ভেসে গিয়েছিলাম। আমরা নেটে ভালো ব্যাটিং করেছি। কিন্তু ব্যাপারটা তো আসলে মাঠে গিয়ে আপনি নির্দিষ্ট বোলারের বিপক্ষে কেমন ব্যাটিং করতে পারলেন সেটা।’
সব কথার শেষ কথা হলো, ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, এই দিনটা বাংলাদেশের ছিল না। তাদের পরিকল্পনা ছিল, পরিকল্পনা প্রয়োগ করার মতো ব্যাটসম্যান ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই কাজে লাগেনি, ‘এটা আমাদের দিন ছিল না। আমরা ভালো ও শক্ত ব্যক্তিগত সব পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম। আমাদের নিশ্চিত করতে হতো যে, সেসব পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে আমরা বড় অবদান রাখতে পারছি। সাকিব ভালো ব্যাট করেছে; ৬০-এর কাছাকাছি রান করেছে। আমাদের ওপরের তিন ব্যাটসম্যান যদি ৬০ বা ৭০ করে করতো, তাহলে গর্ব করা যেতো।’
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রথম টি-টোয়েন্টি
স্কোর কার্ড
ভেন্যু: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
টস: বাংলাদেশ
বাংলাদেশ
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
তামিম ক ব্রাথওয়েট ব কোট্রেল ৫ ৭ ০ ০
লিটন ক ব্রাথওয়েট ব থমাস ৬ ৫ ১ ০
সৌম্য ক পাওয়েল ব কোট্রেল ৫ ৪ ১ ০
সাকিব ক ও ব কোট্রেল ৬১ ৪৩ ৮ ২
মুশফিক রান আউট ৫ ৩ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ ক হোপ ব কোট্রেল ১২ ১৯ ১ ০
আরিফুল ক পুরান ব অ্যালেন ১৭ ১৮ ২ ০
সাইফউদ্দিন ক পুরান ব ব্রাথওয়েট ১ ২ ০ ০
মিরাজ ক হোপ ব পল ৮ ১০ ১ ০
হায়দার অপরাজিত ১ ২ ০ ০
মুস্তাফিজ ব পল ০ ২ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৪, লেবা-২, নো-১, ও-১) ৮
মোট: ১৯ ওভারে ১২৯/১০
বোলিং:
থমাস ৪-০-৩৩-১, কোট্রেল ৪-০-২৮-৪, পল ৪-০-২৩-২, ব্রাথওয়েট ৩-০-১৩-১, অ্যালেন ২-০-১৯-১, পাওয়েল ১-০-৭-০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
লুইস ক আরিফুল ব সাইফউদ্দিন ১৮ ১১ ১ ১
হোপ ক মুস্তাফিজ ব রিয়াদ ৫৫ ২৩ ৩ ৬
পুরান অপরাজিত ২৩ ১৭ ৩ ০
পল অপরাজিত ২৯ ১৪ ১ ৩
অতিরিক্ত (লেবা-৪, ও-১) ৫
মোট: ১০.৫ ওভারে ১৩০/২
বোলিং:
সাকিব ৩.৫-০-৩৩-০, মিরাজ ২-০-৩৭-০, আবু হায়দার ১-০-১৫-০, সাইফউদ্দিন ১-০-১৩-০, মুস্তাফিজ ১-০-১৫-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০১৩-১
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: শেলডন কোট্রেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
