হাঙ্গেরিতে বছরে চারশ ঘণ্টা ওভারটাইমের সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত শ্রম আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর একদিন পর সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন থেকে নিরাপত্তা রক্ষীরা বিরোধী দলীয় দুই আইনপ্রণেতাকে বের করে দিয়েছে।
হাঙ্গেরিতে নতুন শ্রম আইনকে ‘দাস আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রবিবার রাতে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সেখান থেকে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এমটিভিএ’র সদর দপ্তরে যান। তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের সময় দাঙ্গা মোকাবিলার পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ছে।
এদিকে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে গিয়ে একটি পিটিশন পড়ার চেষ্টা করা বিরোধী দলীয় দুই আইনপ্রণেতাকে সোমবার সেখান থেকে বের করে দিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষীরা। ওই পিটিশনে নতুন পাস হওয়া দুইটি আইন নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছিল। সতন্ত্র নারী আইনপ্রণেতা বার্নাডেট এসজিল তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যাতে দেখা যায়, নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে এবং তার সহযোগী আরেকজন আইনপ্রণেতাকে জোর-জবরদস্তি করে টেলিভিশন ভবন থেকে বের করে দিচ্ছে।
বুধবার হাঙ্গেরির উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের ফিডেজ পার্টি পার্লামেন্টে নতুন শ্রম আইন পাস করে। সরকারের দাবি, কর্মঘণ্টায় এই স্বেচ্ছামূলক পরিবর্তন শ্রমিকদের স্বার্থেই এবং এতে করে মানুষ বেশি কাজ ও বেশি আয় করতে পারবে। দেশটির আগের আইন অনুসারে, মালিক শ্রমিকদের বছরে সর্বোচ্চ ২৫০ ঘণ্টা ওভারটাইম করাতে পারতেন।
বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে আরেকটি বিতর্কিত আইন পাস হয়। এতে দেশটিতে নতুন একটি আদালত ব্যবস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আদালত থাকবে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং সরকারের কর ও নির্বাচনের মতো বিষয়ের বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করবে।
