চাষি আর জল-ভূত

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৭

মূল :লিও তলস্তয়, অনুবাদ :কাজী আখতার উদ্দিন

একদিন এক চাষির কুঠার হাত ফসকে নদীতে পড়ে গেল। কুঠার হারিয়ে মনের দুঃখে সে নদীর তীরে বসে কাঁদতে লাগল।

তার কান্না শুনে একটি জল-ভূতের মনে চাষির জন্য দুঃখ হলো, সে একটা সোনার কুঠার নিয়ে পানি থেকে উঠে তাকে বলল—

‘এটা কী তোমার কুঠার?’

চাষি বলল, ‘না, এটা আমার না।’

তারপর সেই জল-ভূত একটি রুপার কুঠার নিয়ে এল।

তবে এবারও চাষি উত্তর দিল, ‘না, এটাও আমার নয়।’

অবশেষে সেই জল-ভূত চাষির হাত থেকে যে কুঠারটা নদীতে পড়ে গিয়েছিল, সেটা নিয়ে এল।

তখন চাষি বলল, ‘হ্যাঁ, এটাই তো আমার কুঠারটা।’

তার এই সততা দেখে জল-ভূত তিনটি কুঠারই তাকে দিল।

বাড়ি ফিরে চাষি তার বন্ধুদের কুঠারগুলো দেখিয়ে কী ঘটেছিল, সবকিছু খুলে বলল।

তখন আরেকজন চাষি ভাবল, সেও একই কাজ করবে।

পরদিন অপর চাষিটি নদীর তীরে গিয়ে তার কুঠারটা পানিতে ছুড়ে ফেলে, তীরে বসে কাঁদতে শুরু করল।

একটু পরই জল-ভূত একটা সোনার কুঠার হাতে নিয়ে পানির ভেতর থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করল—

‘এটাই তোমার কুঠার?’

চাষিটি খুশিতে চেঁচিয়ে উঠল—

‘হ্যাঁ এটাই আমার কুঠার!’

কিন্তু জল-ভূত তাকে কিছুই দিল না, সোনার কুঠারও না আর নিজেরটাও দিল না, কেননা সে অত্যন্ত অসত্ ছিল।