ওসমানীনগরের গ্রামাঞ্চলে ডাকাতি বেড়েছে!

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৭

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা

ওসমানীনগরের বিভিন্ন গ্রামে সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন উপজেলার লোকজন। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশি টহল জোরদারসহ ও গ্রামগুলোর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাতি প্রতিরোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর উপজেলার দশহাল এলাকায় এক বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় ধাওয়া খেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন নাগরিকদের ফোন করে সতর্ক করে দিলে প্রতিটি এলাকার মসজিদের মাইকযোগে ডাকাত প্রবেশের বিষয়টি জানানো হয়। এতে এলাকার লোকজন সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রাত জেগে পাহারা আরও জোরদার করা হয়। গত ১০ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার তাজপুর বাজার সংলগ্ন দুলিয়ারবন্দ এলাকার সুমা ভিলা নামে একটি বাসায় মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতদের হামলায় গৃহকর্তা সুহেল মিয়া আহত হয়েছেন। তবে থানা পুলিশের দাবি- এটি ডাকাতি নয়, ভিন্ন ঘটনা হতে পারে।

গৃহকর্তা সুহেল মিয়া জানিয়েছেন, পাঁচ-সাতজনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল আমার বাসার কলাপসিবল গেটের তালা ও ঘরের দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা, তিনশ’ ইউরো পাউন্ড, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল সেট, জমির দলিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন। এদিকে গত ৭ ডিসেম্বর রাতে ৮/১০ জনের মুখোশধারী একদল ডাকাত উপজেলার গোয়ালা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মুমিনের বাসার কলাপসিবল গেটের তালা ও দরজা ভেঙে বাসায় হানা দেয়। গৃহকর্তা আব্দুল মুমিন বাধা দিলে তাকে শাবল দিয়ে তার কপাল ও ডান হাতের উপর আঘাত করে। পরে ঘরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। এভাবে প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন বলেন, ডাকাতদের ধরতে আমরা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া থানার প্রতিটি গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো এলাকায় ডাকাত ঢুকলে অবশ্যই পুলিশের হাতে তাদের আটক হতে হবে।