ইহরাম থেকে আরাফা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৫

(পূর্ব প্রকাশের পর)

আমি প্রথম পবিত্র ওমরাহ পালন করি ২০০৫ সালে, আজ থেকে ১৪ বছর আগে। তখন ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং পবিত্র ওমরাহর তাত্পর্য বিস্তারিতভাবে যুগান্তর পত্রিকার ‘ইসলাম ও জীবন’ শীর্ষক ফিচার পাতায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরি। আর এবার অর্থাত্ ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই খুব ভোরে BG3265যোগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে জেদ্দার পথে ঢাকা ত্যাগ করি। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া তিনি আমায় পবিত্র হজ নসিব করেছেন। আমি আনন্দিত, আমি অভিভূত, আমি আপ্লুত এই ভেবে যে আল্লাহ আমাকে আবার মক্কা-মদিনা তাওয়াফ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এবার হজের কাফেলায় সেই পবিত্র মক্কা-মদিনায়। হজ বলে কথা, তাই সেই হজের তাত্পর্য আমি প্রথমে তুলে ধরতে চাই। তার পূর্বে ইহরাম কী, সেটাও জানতে হবে। ইহরাম হলো হজ অথবা ওমরাহ কিংবা উভয়টির জন্য নিয়ত করা। কোনো ব্যক্তি ইহরাম সংক্রান্ত কার্যাবলী আরম্ভ করলে তিনি মুহরিম (ইহরামকারী) বলে গণ্য হবেন। ইহরাম বাঁধার নিয়ম হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, পবিত্রভাবে ওজু-গোসল করে সাদা সেলাইবিহীন লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করবেন কিন্তু মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নেই। যে কোনো ধরনের শালীন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করবেন।

আমি বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে হজের প্রধান বিষয়গুলো এক নজরে তুলে ধরতে চাই। যে সব বিষয় হাজির সামনে সব সময় আলোচিত হয়েছে। যে সব স্থান, বিষয়, শব্দ হাজিকে করেছে আন্দোলিত, অনুপ্রাণিত। তার মধ্যে ইহরাম, মিকাত, তালবিয়া, ইজতিবা, মাকামে ইব্রাহিম, জমজম সাফা ও মারওয়া সাঈ, হলক, মুজদালিফা,  দোয়া, জাসরা, কোরবানি, মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি, মিনা,  আরাফা এছাড়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানসমূহ তো রয়েছেই। ওমরাহ পালন শেষে ২০০৫ সালে আমি যেমন তার গুরুত্ব, তাত্পর্য ও শিক্ষা প্রসঙ্গে পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে আমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলাম, তেমনি এবার অর্থাত্ ২০১৯ সালে বড়ো হজ করে দেশে ফিরলে বিভিন্ন পেশার বন্ধুরা আমাকে আমার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কাগজে লিখতে উত্সাহিত করেন। সেই উত্সাহ ও পরামর্শ থেকেই আমার এই লেখা। লেখার ফলে আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হই। হজ সংক্রান্ত চিন্তা-চেতনার অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য এতে যুক্ত হয়। হজের গুরুত্ব গভীরের বিষয় আলোচনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যায়। বিশেষ করে হাজিদের বিভিন্ন সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা সমাধানকল্পে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা যায়। সবচেয়ে বড়ো কথা, আমার প্রতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা লাভের সুযোগ ঘটে।

(চলবে )

লেখক :জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী