উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও মজুরি বৃদ্ধির ফলে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছে নতুন বাজারের দিকে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রপ্তানিতে। বহু ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। কঠিন সময় পার করছেন তৈরি পোশাক শিল্পোদ্যোক্তারা— জানালেন রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রীতি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তালুকদার (ফারুক) সিআইপি।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, কঠিন সময় পার করছে পোশাকশিল্প মালিকগণ। রানা প্লাজা ধসের পর এখানে সক্রিয় হয়েছে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স। পদক্ষেপটি ইতিবাচক কিন্তু ইতিমধ্যে সহস্রাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান হারিয়েছে বহু মানুষ। দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং এই সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উত্পাদন-ব্যয় বেড়েছে কিন্তু ক্রেতারা দাম বাড়ায়নি। এতে সংকটে পড়েছেন শিল্পমালিকগণ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, আফ্রিকাসহ নতুন বাজার সন্ধান করছে ক্রেতারা। ক্রেতাদের ধরে রাখাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রণোদনা উঠিয়ে দেওয়ার নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে এ খাতে।
শিল্পোদ্যোগে প্রীতি গ্রুপের মাধ্যমে ২৩ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি, এটিই আমার আনন্দ। স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রাপ্তি আমার দায়বদ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ ও অর্থ কেলেঙ্কারিসহ নানা কারণে ব্যাংকগুলো ভুগছে তারল্য সংকটে। ফলে ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিট ঋণ চালু করতে পারছে না। তবে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নিলেও প্রত্যাশিত ব্যবসা না হওয়ার কারণে সময়মতো ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না অনেকেই। আছে জ্বালানি সংকটও। তৈরি পোশাক খাত ও গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সব দিক থেকেই অবস্থা নাজুক। প্রীতি সোয়েটার্স ও অক্সফোর্ড কালার্স নামে আমারও দুটি ফ্যাক্টরি আছে। কিন্তু অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিশাল বিনিয়োগে গ্রিন ফ্যাক্টরি করেছি। কিন্তু ক্রেতারাও দাম বাড়ায়নি। এতে বাংলাদেশের হয়তো সুনাম হচ্ছে কিন্তু ব্যবসা হয়নি। এমন বহুবিধ কারণে পোশাক খাতের ব্যবসায় মন্দা চলছে। প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত না হলে পোশাকশিল্প রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
—জসিম উদ্দীন
