শুধু পেঁয়াজ নয়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারে সবজির দাম অন্তত ২০ ভাগ বেড়েছে। এসব কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজন। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। ফলে বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
দ্রুত সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নিলে নতুন বছরে নিত্যপণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার ও শহরের বড়ো বাজার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫-৪০ টাকা। পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়, যা গেল সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকায়, দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা, যা আগে ছিল ১৯০ টাকা। রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টম্যাটো ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাঁজর ৯০ টাকা, লাল শাক ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা ও শিম ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব কিছুর তুলনায় মাছ ও মুরগির দাম কিছুটা কমের দিকে।
নতুন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনসহ কয়েক জন জানান, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজিই ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।’ পাইকারিতে শীতের সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে এখানে তাদের কিছু করার নেই বলে দাবি করেন তারা। তবে দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে শীতের সকল সবজি বাজারে চলে আসলেই দাম কমে যাবে বলে জানান তারা।
বাজারের পান-সিগারেট বিক্রেতা আবু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় তার। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পাঁচ জনের সংসার। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধার-দেনা বাড়ছে তার। কোনো রকমে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে কীভাবে সংসার চালাব! আর কত ধার-দেনা করব! এক কেজি পাকা টম্যাটো কিনতে লাগে ১০০ টাকা। পেঁয়াজ ২২০ টাকা।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, আমরা বাজার মনিটরিং করব। কেউ যদি পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও বাজারে বণিক সমিতির কমিটি না থাকায় কিছু সমস্যা হচ্ছে।
