রংপুরে প্রবীণদের সঙ্গে নবীনদের লড়াই

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন অনেক নতুন মুখের রাজনীতিবিদ। প্রার্থীরা জানান, জয়ের জন্য নির্বাচনের মাঠে প্রবীণ প্রার্থী বা নতুন প্রার্থী কোনো বিষয় নয়, জনগণ যাকে যোগ্য বলে মনে করবেন তাকেই ভোট দেবেন। অন্যদিকে, প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রার্থীদের সঙ্গে নতুনদের লড়াই খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন ভোটাররা।

রংপুর-১ আসন (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) মহাজোটের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান (রাঙ্গা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু, বিএনপির শাহ্ মোঃ রহমতুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোক্তার হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইশা মোহাম্মদ সবুজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  তাদের অধিকাংশই নির্বাচনে নতুন মুখ। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক বলেন, ভোটাররা এ আসন থেকে বহিরাগতদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি মনে করি এবার তারা এ ভুল বুঝতে পেরেছে। এবারের নির্বাচনে জনগণের কাছে প্রবীণ আর নতুন প্রার্থী বলে কিছু নেই। জনগণ এবং ভোটারদের কাছে যে প্রিয় মানুষ, যে এ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বহিরাগত নয়, তাকেই জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ইউপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুসহ আরও যে চারজন রয়েছেন রংপুরের-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি আবুল কালাম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টি (এ) আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মুকুলসহ ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে ডিউক চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী সরকার ও আনিছুল ইসলাম মন্ডল এর আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে অন্যরা এই নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য পদে লড়ছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবলু চৌধুরীর চাচাতো ভাই প্রয়াত আব্দুল মমিন চৌধুরীর ছেলে হলেন ডিউক চৌধুরী। সম্পর্কে সাবলু চৌধুরীর ভাতিজা ডিউক চৌধুরী। ভোটের মাঠে চাচা-ভাতিজার লড়াই ভোটারদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

এ আসনে ডিউক চৌধুরী ও সাবলু চৌধুরী ছাড়াও এবারের নির্বাচনে লড়ছেন- সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার (বিএনপি-ধানের শীষ), সাবেক এমপি আনিছুল রহমান মন্ডল (স্বতন্ত্র সিংহ), আশরাফ আলী (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), কুমারেশ চন্দ্র রায় (জাসদ-মশাল), হারুন অর রশিদ (বিকল্পধারা-কুলা), আশরাফ-উজ-জামান (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), জিল্লুর রহমান (বিএনএফ-টেলিভিশন) ও ওয়াসিম আহমেদ (এনপিপি-আম)।

চাচা-ভাতিজার লড়াইয়ের ব্যাপারে সাবলু চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী মাঠে পিতা-পুত্রের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে চাচা-ভাতিজা কোনো বিষয় নয়। 

 রংপুর-৩ (রংপুর সদর ও সিটি) আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে লড়বেন নতুন মুখ বিএনপির রিটা রহমান, জাসদের সাখাওয়াত রাঙ্গা, প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক পার্টির সাব্বির আহম্মেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আনোয়ার হোসেন বাবলু, জাকের পার্টির আলমগীর হোসেন আলম, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মন্ডল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ছামসুল হক। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রিটা রহমান বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছি। রংপুর বিএনপি আমার পাশে আছে। ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনে আমিই জয়ী হবো। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রার্থী কোনো বিষয় নয়। নির্বাচনে কে জয়ী হবে তা নির্ভর করে জনগণের রায় ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে শিল্পপতি আওয়ামী লীগের দুইবারের সংসদ সদস্য টিপু মুনিশর সঙ্গে লড়বেন বিএনপির বিড়ি শিল্পনগরী হারাগাছের  এমদাদুল হক ভরসা ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলসহ অন্যান্য দলের  তিনজন প্রার্থী। মূলত প্রধান তিনটি দলের মধ্যে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু মুনিশ বলেন, নির্বাচনে শিল্পপতি প্রার্থী কোনো বিষয় নয়। এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্যই কাজ করেছি। সকল সামাজিক কাজে উন্নয়ন করেছি। যা এখানকার জনগণ জানেন। আমি মনে করি এবারের নির্বাচনে জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করবে। এবং তৃতীয়বারের মত জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবে।     

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের সঙ্গে লড়ছেন বিএনপির ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য দলের আরও তিনজন। ২০০১ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশিকুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জাতীয় পার্টির(এ) এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানী এ উপজেলা থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও এই আসনে চারবারের সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে এ আসনে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এ আসনের সর্বোচ্চ উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। আশাকরি এবারও জনগণ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকেই জয়ী করবে।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে লড়বেন ঐক্যফ্রন্টের জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দলের আরও চারজন। যাদের অধিকাংশই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন।

মহাজোটের প্রার্থী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের ভোট নিয়ে আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হয়েছি। এটা শুধু আমার না, গোটা পীরগঞ্জবাসীর গৌরব। আমি পীরগঞ্জের উন্নয়নে সম্ভব সবকিছু করেছি, আবারও নির্বাচিত হলে সারাদেশের মধ্যে আলোকিত উপজেলা হবে পীরগঞ্জ।

স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এজন্য সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।