খুলনায় উত্তপ্ত হচ্ছে ভোটের মাঠ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৪

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনায় উত্তপ্ত হচ্ছে ভোটের মাঠ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ততই বাড়ছে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের ফুলতলায় আওয়ামী লীগের দুটি কার্যালয়ে বোমা নিক্ষেপ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের ৭-৮ জন নেতাকর্মী আহত হন। অপর দিকে, একই দিন খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) নির্বাচনী এলাকার রূপসা উপজেলার জোয়ার গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২০ জন আহত হন। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

ফুলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটু বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলা চালায়। নিক্ষিপ্ত বোমাটি কার্যালয়ের পূর্ব পাশের দেয়ালে লেগে বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ঘটনায়  কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার সময় তিনি এবং দলের নেতাকর্মীরা বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অপর দিকে, রাত সোয়া ৯টার দিকে গাড়াখোলার দামোদর ইউনিয়ন কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে আওয়ামী লীগের ৭-৮ জন কর্মী আহত হয়।

অপর দিকে, খুলনা-৫ আসনে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘাড়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ছাড়া পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের শ্রীকণ্ঠপুর ফুটবল মাঠসংলগ্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার টানানোর সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় মুজিবর রহমান সানা, রফিকুল ইসলাম এবং হাফেজ আব্দুল নূরসহ বিএনপির চারজন কর্মী আহত হয়। অপর দিকে, পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের হামলায় হাশেম সরদার নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়।

এ দিকে, শনিবার খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেন।

খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে। ধানের শীষে ভোট না দিলে নির্বাচনের পর দেখে নেয়া হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন তারা।

আর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মীদের তাণ্ডবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারছে না। গত ৪/৫ দিনে তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধির ধারও ধারছেন না। 

এভাবে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও হামলায় গরম হয়ে উঠছে খুলনার নির্বাচনী মাঠ।