জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৩

জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে যে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তাদের অংশগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের উপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, মো. আলী হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও হুমায়ুন কবির গতকাল হাইকোর্টে এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে জামায়াত নেতাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অবৈধ ঘোষণার প্রশ্নে রুল জারির জন্য আদালতে প্রার্থনা জানানো হয়েছে। এই রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে এই রিটে।

গতকাল শুনানিতে রিট আবেদনকারীগণের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ২০০৯ সালে রিট করা হয়। ওই রিটের ওপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১)(বি)(২) এবং ৯০সি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধানপরিপন্থী। এই রায় এখনো বহাল আছে। তিনি বলেন, যেহেতু জামায়াতের নিবন্ধন নেই সেহেতু ওই দলের কোন নেতা নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে পারছেন না। যেহেতু নিজস্ব প্রতীকে পারছেন না সেহেতু অন্য কোন দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এরপরেও  জামায়াতের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে ইসি হাইকোর্টের রায় ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি পারবে না সেটা দেখার দায়িত্ব ইসির। কমিশনের কাজ আমরা করব না। আমরা শুধু রুল জারি করতে চাই। আদালত আরো বলেন, সংসদ নির্বাচন দোড়গোরায়। তাড়াহুড়ো করে কোন সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। আর আপনারা (রিটকারী) কেন এত দেরিতে আদালতে আসলেন? আদালত বলেন, এ বিষয়ে ইসিতে কোন আবেদন দিয়েছেন? তখন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, দেয়া হয়নি। আদালত বলেন, কমিশনে আবেদন দিন। এরপরই হাইকোর্ট আজ পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন।