সকাল থেকে মুখ ভার করে রইলো আকাশ।
পাহাড়ি শহর সিলেটের বুকে দু এক ফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা মিললো। এর মধ্যেই সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে, ভিড় ঠেলে মাঠে জড়ো হলেন হাজারো মানুষ। উপচে পড়া ভিড় ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। কিন্তু এই দর্শকের কষ্টটা সার্থক হলো না। দলের পরাজয়ের বেদনা সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের।
গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী ক্যারিবীয়রা।
বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৯ ওভারে ১২৯ রান তুলতে অলআউট হয়েছিল। স্বাগতিকদের ৫ ব্যাটসম্যানই আউট হয়েছেন শর্ট বলে। এর মধ্যে তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সৌম্য সরকার; তিন জনই শর্ট বলে তুলে মারতে গিয়ে তিরিশ গজ বৃত্তের মধ্যে ক্যাচ তুলে দিলেন।
প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করে দিনের সফল বোলার শেলডন কোট্রেলের বলে ক্যাচ দেন তামিম। এর মধ্যে লিটন দাস একটা বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন ইনিংস। কিন্তু তিনিও ৫ বলে ৬ রান করে ফেরেন। সৌম্য ৪ বলে করেন ৫ রান। এক প্রান্তে সাকিব আল হাসান এসে একটু থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। অন্য প্রান্তে ৩ বলে ৫ রান করে রান আউট হন মুশফিক।
মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুলকে নিয়ে ছোট ছোট দুটি জুটি করে এগোনের চেষ্টা করেছিলেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহ ১৯ বলে ১২ ও আরিফুল ১৮ বলে ১৭ রান করে আউট হন। এরপর সাইফউদ্দিন এসে মাত্র ১টি রান করে আউট হন। এই পুরোটা সময় এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে গেছেন সাকিব।
শেষ পর্যন্ত অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। তিনিও শর্ট বলের শিকার ছিলেন। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৬১ রান করে ফেরেন তিনি। সাকিব আউট হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু হায়দার রনি ও মুস্তাফিজুর রহমানরা আর খুব বেশিদূর যেতে পারেননি।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে তাণ্ডব শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৩.১ ওভারে ৫১ রান তুলে ফেলে তারা। এভিন লুইস সাইফউদ্দিনের বলে আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ১৮ রান করেন। তবে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন ওয়ানডে সিরিজেও দারুণ ফর্মে থাকা শাই হোপ। তিনি মাত্র ২৩ বলে ৫৫ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। হোপের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছক্কা।
হোপ আউট হওয়ার পর বাকি পথটাও ঝড়ের গতিতে পার করে ফেলে ক্যারিবীয়রা। নিকোলাস পুরান এক প্রান্তে ১৭ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্য দিকে ১৪ বলে ২৮ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কেমু পল।
