পথশিশুরা আমাদের সমাজে সবসময়ই অবহেলিত। অনেকেই তাদের আবর্জনা মনে করে থাকেন। তাছাড়া সঠিক পরিচর্চার অভাবে এরা নানা ধরনের খারাপ কর্মে লিপ্ত হয়। তবে এদের সঠিকভাবে দিক-নির্দেশনা বা পরিচর্চা করলে এরাও দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
ভিন্নচোখে ডেস্ক
পথশিশুরা পুতুলের মতো ছোটবেলা থেকেই লালিত-পালিত হয় সমাজের অবহেলার পাত্র হিসেবে। এদের মাঝে প্রাণ আছে, কিন্তু এদের মাঝে মনুষ্যত্ব স্থাপন করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে ‘পুতুল’ সামাজিক সংস্থা। আর এই কার্যক্রমকে তারা রূপক অর্থে ‘পুতুল’ নামকরণ করেছে। ঠিক যেমন পুতুল খেলায় আমরা পুতুলকে আমাদের মনের মতো করে সাজাতে পারলেও ওদের মাঝে প্রাণ দিতে পারি না, ঠিক তেমনি প্রাণ থাকা সত্ত্বেও যে সকল পথশিশু তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে তাদের মাঝে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার বীজ বোপণ করার সঙ্গে নূন্যতম মৌলিক অধিকার প্রদান করাই পুতুলের প্রধান লক্ষ্য।
পুতুলের ধানমন্ডি স্কুলে লেক সংলগ্ন একটি বসার কক্ষে পথশিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। পাটি বা মাদুরে সারিবদ্ধভাবে বসে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে থাকে। এছাড়াও উন্মুক্ত স্থানে আরো ৪টি স্কুল চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে শিশুদের প্রতিদিন খাবার দেওয়া হয়। টিফিনসহ সংস্থার সদস্যদের জন্মদিনও পালন করা হয়।
পুতুল স্কুলে ৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, কেউ চাকরিজীবী। শত কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও পথশিশুদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা শিক্ষাদান করে আসছেন। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি করে দেওয়াসহ আনুষাঙ্গিক সকল খরচ (বই-খাতা,ব্যাগ, ড্রেস, স্কুলের বেতন ও ভর্তি ফি) সংস্থাটি বহন করে। প্লে গ্রুপ থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয় পুতুল স্কুলে। এই স্কুলটি পরিচালনার সম্পূর্ণ অর্থায়ন সদস্যরা করেন। তবে অর্থায়নের একটি বড় অংশ এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্রদান করে থাকেন। স্কুলের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয় স্কুলটির পরিচালক শবনম শাহজাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পথশিশুরা আমাদের সমাজে সবসময়ই অবহেলিত। অনেকেই তাদের আবর্জনা মনে করে থাকেন। তাছাড়া সঠিক পরিচর্চার অভাবে এরা নানা ধরনের খারাপ কর্মে লিপ্ত হয়। তবে এদের সঠিকভাবে দিক-নির্দেশনা বা পরিচর্চা করলে এরাও দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। একটি স্কুল বর্তমানে চালু করেছি, তবে খুব শিগগিরই আরো ৪টি স্কুল শহরের বিভিন্ন স্থানে চালু করবো। এছাড়া পথশিশুদের নিয়ে আমাদের আরো বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও অর্থ সঙ্কটে ধীরে ধীরে এগুতে হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আসলে দ্রুতগতিতে সব করাও সম্ভব না। এই কার্যক্রমের সকল খরচই আমাদের সদস্যরা বহন করে থাকেন।’
