রংপুরে স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান। গতকাল রবিবার সকালে নগরীর বাহার কাছনার (কাচনার দোলা) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অটো রিকশাচালক আবদুর রাজ্জাক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহার কাছনা কাকিনা ব্রিজ সংলগ্ন কাচনার দোলা এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী তাসনিয়া আক্তার রত্নার (৩৫) মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। রত্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর তার তিন বছর বয়সি কন্যা নিহা ও এক বছর বয়সি ছেলে নিশাদকেও একইভাবে হত্যা করেন। রাজ্জাক প্রায়ই নেশাগ্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারপিট করতেন বলে অভিযোগ করেছে প্রতিবেশীরা। এ ঘটনার পর রাজ্জাক নিজে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি, মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানার পুলিশ এবং র?্যাব-১৩ এর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক বাড়িতে তিনটি হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে হাজার হাজার মানুষ ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামী মান্নান গাজী (৫০) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গাজী পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত সোনা বিবি শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের সিরাজ গাজীর মেয়ে। মান্নান গাজী একই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গাজী পাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব গাজীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় এ দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে মান্নান রাতে ধারালো কুড়াল দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর তিনি বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহত দম্পতির দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্যামনগর থানার (ওসি) তদন্ত ইয়াছিন আলম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে সোনা বিবি ও মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর (পোস্তগোলা ব্রিজের) ওপর থেকে নদীতে ফেলে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছেন তার স্বামী। নিহত গৃহবধূর নাম কানিজ ফাতেমা সাম্মু (৩৫)। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা স্বামী রিপনকে হাতেনাতে আটক করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশে সোপর্দ করে। নিহতের বাড়ি রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৬০/৬১ মিলব্যারাক কেবি রোড এলাকায়। তার পিতার নাম ওসমান জাফর।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ঐ দম্পতির মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। শনিবার সন্ধ্যায়ও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রিপন ঘুরতে বের হবার কথা বলে স্ত্রীকে ঐ ব্রিজে নিয়ে আসেন। সুযোগ বুঝে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঐ গৃহবধূর স্বজনরা সারা রাত নদীর পাড় ধরে তাকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু গতকাল রবিবার সকালে হাসনাবাদ মোকামপাড়া এলাকায় তার লাশ ভেসে উঠে। এ ঘটনায় কানিজের বোন রিফাত ফাতেমা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
